08th Jul 2008
মালয়েশিয়ায় ডি-এইট সম্মেলন : কর্মসূচী ও উদ্দেশ্য
উন্নয়নশীল আটটি মুসলিম দেশের সমন্বয়ে গঠিত ডি-এইট জোটের শীর্ষ সম্মেলন আজ মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে শুরু হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টসহ অন্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। ডি-এইট জোটের শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতা বিস্তারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। তাছাড়া ডি-এইট ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভিসা প্রদান সহজ করা, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং শুল্ক হ্রাস করার বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সাথে ৬ ও ৭ই জুলাই এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সেসব বাস্তবায়নের উপায় নিয়েও জোটের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হবে
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বিশ্বে চলমান খাদ্য সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য জোট গঠনের ব্যাপারে ইরানের একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনে দেয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট জনাব মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, ডি-এইট ভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে যে কোন সংকট বা ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সাথে বিশ্বে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে পারেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশলী অর্থনৈতিক জোট গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১২ বছর আগে তুরস্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দীন আরবাকানের প্রস্তাব অনুযায়ী ডি-এইট জোট গঠন করা হয়েছিল। ইরান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, তুরস্ক ও নাইজেরিয়াকে নিয়ে জোট গঠন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডি-এইট ভুক্ত দেশগুলোতে প্রায় ৯০ কোটি জনশক্তি, সমুদ্র ও স্থল পথে সর্বোত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা, বিপুল জ্বালানী সম্পদ এবং মালাইকা, সুইজ খাল ও হরমুজ প্রণালির মত গুরুত্বপূর্ণ পনিপথ থাকার কারণে জোটের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাদের মতে উন্নয়নশীল এই আটটি মুসলিম দেশের মধ্যকার শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। যদিও এই দেশগুলোর মধ্যকার কিছু কিছু রাজনৈতিক মতবিরোধ সহযোগিতা বিস্তারের পথে অন্তরায় হয়ে আছে, কিন্তু তারপরও সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই দেশগুলোর মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গীগত অনেক মিলও রয়েছে। এরই ভিত্তিতে এই আটটি মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতাদের বর্তমান উদ্যোগ থেকে বোঝা যায়, জোটের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য তারা সকল সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.