10th Jul 2008

বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা দাবি : বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভারতের উত্তর-পুর্ব রাজ্যগুলোতে অনায়াসে যাতায়াত করার লক্ষ্যে ট্রানজিট সুবিধা দিতে বাংলাদেশের উপর ভারতীয় চাপ অব্যাহত রয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ডক্টর ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ভারত ট্রানজিট চায় এবং ভবিষ্যতেও এ দাবি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী দাবি করেন, ট্রানজিট সুবিধা দেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হতে পারে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী বাংলাদেশী পণ্যের উপর আরোপিত বিভিন্ন শুল্ক বাধা আরোপ, সীমান্ত এলাকায় সীমানা নির্ধারণ সমস্যার সমাধান , চাল রপ্তানীর ওপর নিষেধাজ্ঞা, ছিটমহল সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আমলে ভারত বহুবার ট্রানজিট সুবিধা পাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে ট্রানজিট সুবিধা যত সহজে আদায় করা যাবে নির্বাচিত কোনো রাজনৈতিক সরকারের কাছ থেকে তা আদায় করা অনেক কঠিন হবে বলে মনে করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এই প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগের কৌশল অবলম্বন করছে। আগামী ১৭ জুলাই নয়াদিল্লীতে শুরু হচ্ছে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক। এ বৈঠকে ট্রানজিট সুবিধা আদায় করতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের জন্য ভারত পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর আতিউর রহমান বলেন, চীন তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভাল আচণের মাধ্যমে অনেক এগিয়ে গেছে। তেমনি ভারত ভাল আচরণের মাধ্যমে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করলে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, গ্লোবাল ভিলেজের বিশ্বে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবাই লাভবান হতে পারে। এজন্য বড় রাষ্ট্রগুলোকে উদার মনোভাব দেখাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রানজিট সুবিধার মাধ্যমে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনি বাংলাদেশও। তবে তার আগে এই দুই দেশের মাঝে যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে তা দুর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে উভয় দেশকে। (মনজুর রশিদ,ঢাকা থেকে)

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.