11th Jul 2008
আজ কবি আল মাহমুদের জন্মদিন
কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো প্রভৃতি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের কবি আল মাহমুদের আজ জন্মদিন। বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ৭২ পেরিয়ে ৭৩-এ পা রাখলেন । শুভ হোক তার জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি।
তিতাস পারের সেই দুরন্ত শিশু আজ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে একটি ভিন্ন ধারা সৃষ্টিকারী এ কবির লেখার মূল উপজীব্য দেশপ্রেম, প্রকৃতি ও মানুষের সুখ-দু:খের কথা।
বাঙালি মুসলমান ও চাষি সমাজের মুখের ভাষাকে যেভাবে আধুনিক রূপ দিয়েছেন তা অন্য কারো কবিতায় দেখা যায় না। তার কবিতা, গল্প ও উপন্যাসে যেমন রয়েছে গ্রামের জীবনচিত্র তেমন রয়েছে শহুরে মানুষের কথা। রয়েছে প্রেম এবং বিশ্বে যে অন্যায় অবিচার চলছে তার বিরুদ্ধে দ্রোহের কথা। কবির লেখায় আঞ্চলিক শব্দ আর আঞ্চলিকতার কাঠামোয় আবদ্ধ থাকেনি। হয়ে উঠেছে আধুনিক শব্দ। সোনালী কাবিন, কালের কলস ছাড়াও রয়েছে দ্বিতীয় ভাঙ্গন, মিথ্যাবাদী রাখালের মতো বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসেও থেমে নেই কবির লেখনি। কবির সর্বশেষ কবিতার বই ‘সেলাই করা বুক’। কবিতার পাশাপাশি ছড়া, ছোট গল্প, প্রবìধ এবং উপন্যাসেও সমান পারদর্শী এ কবি। পানকৌড়ীর রক্ত, গìধবণিক প্রভৃতি ছোট গল্প বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্খান দখল করে আছে। কাবিলের বোন, উপমহাদেশ, ডাহুকী প্রভৃতি কবির বিখ্যাত উপন্যাস। অংশ নিয়েছেন ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে।
এ সময়ের অন্যতম কবি আসাদ চৌধুরী কবি আল মাহমুদ সম্পর্কে বলেন, আল মাহমুদের জন্ম না হলে বাংলা ভাষার কবিতাপ্রেমীদের কবিতা পড়ার সাধ কখনো পূরণ হতো না। কবি আল মাহমুদ আমাদের দুখিনী বর্ণমালাকে রানীর ঐশ্বর্যে সাজিয়েছেন। আমাদের মা-খালাদের কাবিন যে সোনালী এটা তার কল্যাণেই আমরা জানতে পেরেছি। মায়ের হারিয়ে যাওয়া সোনালী নোলকের জন্য তার যে আহাজারি আর্তনাদ তা বাংলার তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত করে। ‘নোলক’ কবিতায় আল মাহমুদ লিখেছেন আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে/হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে/নদীর কাছে গিয়েছিলাম আছে তোমার কাছে? হাত দিয়ো না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
কবিতাকে অবলম্বন করার কারণে কবিকে জীবনে অনেক দু:খ-কষ্ট সইতে হয়েছে। তবে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কবিতাকে তিনি ছাড়েননি। জীবন তার মোটেই সহজ-সরল ছিল না। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে এখানো এ পড়ন্ত বেলায় লিখে চলেছেন তিনি।
কবি এখন লেখালেখির মাধ্যমে জীবনের শান্তিপূর্ণ পরিসম্পাপ্তি টানতে চাইছেন । এ সম্পর্কে কবি আল মাহমুদ বলেন, জীবনে অনেক দীর্ঘ সময় পার করে এসেছি সন্দেহ নেই। অনেক দু:খ-দুর্দশা সইতে হয়েছে। কবিতাকে অনেক দূর নিয়ে এসেছি। এখন শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি চাই।
কবি এখন একা থাকতে চান কিন্তু সব সময় সম্ভব হয় না। চোখে ঠিকমতো দেখতে পান না। বার্ধক্য ভর করার কারণে অনেকক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন না। তাই লেখালেখি এবং অন্যান্য কাজে অপরের সাহায্য নিতে হয় কবিকে। তবুও চেষ্টা করেন কবিতা নিজের হাতে লিখতে।
কবির জন্মদিনকে ঘিরে গুলশানের কেয়ারী শানের বাসভবনে আজ কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন কবির ভক্তকুল।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.