12th Jul 2008

ভারতকে ট্রানজিট দেবার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া

১২ জুলাই : বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ট্রানজিট দেয়া কিংবা না দেয়ার ইস্যুতে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা । অনেকেই বলছেন, ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সড়ক পথে ভারতের উত্তর-পুর্ব রাজ্যগুলোতে যাবার ট্রানজিট এবং চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে।

এ বিষয়ে কয়েকজন অর্থনীতিবিদ দাবি করেন ভারত বড় দেশ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যই বাংলাদেশের সাথে ভারতের সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলা প্রয়োজন। তারা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে উন্নত সম্পর্ক না রেখে কোনো একক দেশের পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সংকীর্ণ মনোভাবের কারণে তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে নি। তাদের অভিযোগ ভারতের মাত্রাতিরিক্ত স্বার্থপরতার কারণেই সার্ক শক্তিশালী হতে পারেনি এবং নেপাল, ভূটানের সাথে ট্রানজিট সুবিধা পায় নি বাংলাদেশ। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আর কয়েকমাস বাকি। এই মূহুর্তে ভারতকে তড়িঘড়ি করে ট্রানজিট দিলে তা হবে আত্মঘাতি। বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান মনে করেন ভারতের কথার উপর কখনোই আস্থা রাখা যায় না। তারা আমাদের চাল দেয়ার কথা থাকলেও ওয়াদা অনুযায়ী চাল এখনও পাই নি। তিনি বলেন, ভারতকে একান্তই ট্রানজিট দিতে হলে কয়েকটি দেশকে সমন্বিত করে ট্রানজিট দেওয়া যেতে পারে। এককভাবে ভারতকে ট্রানজিট দিলে দেশের জন্য তা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আব্দুল কাদের বলেন, ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেবার কথা বললেও তারা তা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেবার চেষ্টা করবে। এজন্য আমরা মনে করি আমাদের জন্য অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কোনো দিক থেকেই সুবিধাজনক হবে না। বিশিষ্ট আইনবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ভারতকে ট্রানজিট দেবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি। বর্তমান সরকার ট্রানজিট দেবার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এদেশের অধিকাংশ মানুষই ভারতকে ট্রানজিট দেবার বিরোধী। তাই এই বিতর্কিত ইস্যুটি একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই হবে বর্তমান সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.