13th Jul 2008

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে টেলিফোন সন্ত্রাস

-মাসুম মিজান
 অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে টেলিফোন সন্ত্রাস। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ মোবাইল বা টেলিফোন সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে চাঁদাবাজি, প্রতিপক্ষকে হুমকি প্রদান ও বিভিন্ন হয়রানির শিকার ব্যক্তির সংখ্যা বাড়ছেই। অপর দিকে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়া প্রযুক্তি-নির্ভর এ সন্ত্রাস মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও। এ ধরনের অধিকাংশ ঘটনাই থেকে যাচ্ছে ক্লুহীন। অপরাধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বরগুলো শনাক্ত করাও মুশকিল হয়ে পড়েছে। কারণ পেশাদার সন্ত্রাসী বা প্রতারকরা ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের সিম ব্যবহার করেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপতৎপরতা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের টেলিফোন সন্ত্রাস প্রতিরোধ ইউনিট জানায়,

ল্যান্ডফোন ও মোবাইল-নির্ভর অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। রাজধানীর সব থানা ও সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০-৯০টি অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, বিভিন্ন শত্রুতার জের ধরে হুমকি দেয়া ও নানা রকম হয়রানির কবলে পড়ে থানায় ছুটে আসছেন বহু নিরীহ মানুষ। তবে অভিযোগকারীদের অধিকাংশ ঘটনাই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ অপরাধীরা এসব কর্মকাণ্ড কখনোই নিজেদের নামে থাকা সিম ব্যবহার করে করছে না। এসব ক্ষেত্রে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের সিম ব্যবহার করায় কূলকিনারা খুঁজে পায় না তদন্তকারীরা। তবে যেসব সিমের রেজিস্ট্রেশন সঠিক থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
র‌্যাব সদর দফতরের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মেজর সামসুস জোহা ‘নয়া দিগন্ত’কে বলেন, অধিকাংশ অপরাধ পরিচালিত হচ্ছে ভুয়া সিমের মাধ্যমে। আগে অপরাধীরা সরাসরি হুমকি বা চাঁদাবাজি করত। কিন্তু এখন এ ধরনের অপরাধ পরিচালিত হচ্ছে ফোনের মাধ্যমে। কারণ এটা অনেক সহজে করা যায়। ফলে প্রতিনিয়ত অসংখ্য অভিযোগ আসছে র‌্যাবের কাছেও। যেসব নম্বর ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে সেসব নম্বরের রেজিস্ট্রেশন অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে­ বেশিরভাগই ভুয়া রেজিস্ট্রেশন। ফলে অপরাধীদের খুঁজে বের করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেলিফোন বা মোবাইল সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সব সীম বন্ধ করে দিয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো মোবাইল সিমই রেজিস্ট্রেশনবিহীন থাকার কথা নয়। ফলে মোবাইল ব্যবহারকারীর প্রকৃত পরিচয় চাইলেই বের করা সম্ভব হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সাথে প্রতিটি মোবাইল অপারেটর যৌথভাবে কাজ করছে। অভিযুক্ত নম্বর সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে।
এ দিকে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, প্রতারক বা অপরাধীরা এখন নতুন কৌশলে সিম কিনে ব্যবহার করছে। ফটো স্টুডিও থেকে অন্য কারো ছবি নিয়ে সিমের রেজিস্ট্রেশন করা হচ্ছে ভুয়া নাম-ঠিকানায়। সিম বিক্রির বেশি কমিশনের জন্য একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীও এভাবে অসংখ্য ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর মালিবাগ এলাকার এক ফটো স্টুডিও মালিক জানান, কয়েক মাস আগে রাজধানীর অনেক স্টুডিওতে পুরনো ছবি বিক্রির হিড়িক পড়ে। সিম বিক্রেতারা শর্ত হিসেবে পাসপোর্ট সাইজের ছবি কিনেছে। প্রথম দিকে বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে সবাই জানতে পারে যে, ছবিগুলো ব্যবহার করে সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করা হয়, যা এখনো অব্যাহত আছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.