13th Jul 2008
অভিন্ন নদীর পানিসম্পদ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ৫০ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব আলোচনায় বক্তারা

<< বক্তব্য রাখছেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমানঃ নয়া দিগন্ত
বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, শুধু অভিন্ন নদীর পানিসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ৫০ কোটি মানুষ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতের মতো রাষ্ট্রকে বড়ভাই সুলভ মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভারতকে উদারতা দেখানোর আহ্বান জানান তারা। তা না হলে পানিসম্পদ নিয়ে এ অঞ্চলের দরিদ্রতা বাড়ার পাশাপাশি পরস্পরের মধ্যে আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস দেখা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এরপর বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোর চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান পিছিয়ে থাকবে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।
গতকাল অর্থনীতি সমিতির অডিটোরিয়ামে ‘অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশীয় জনগণের ভাগ্য বদলে দিতে পারে’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল বক্তব্য পাঠ করেন
যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য তৌহিদুল আনোয়ার খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ ওয়াটার পার্টনারশিপের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী, ওয়ার্পোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, যৌথ নদী কমিশনের সদস্য প্রকৌশলী মীর সাজ্জাদ হোসেন, প্রকৌশলী কমল সিদ্দিকী বীরউত্তম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এডিজি জালাল উদ্দিন মোঃ আবদুল হাই, ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড.খন্দকার আজহারুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তৌহিদুল আনোয়ার খান তার প্রবন্ধে বলেন প্রাকৃতিকভাবে এ অঞ্চলের মানুষ একে অপরের সাথে নদী দিয়ে সম্পৃক্ত। আর এসব অভিন্ন নদীর পানির ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশীয় জনগণের ভাগ্য বদল করে দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি নেপালে কয়েকটি জলাধার নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেপালে সপ্তকোশি ড্যাম নির্মাণ করে প্রায় ৪০ হাজার মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। যার ভাগিদার হতে পারে নেপাল-ভুটান-ভারত-বাংলাদেশ। এই ড্যাম নির্মাণ করা গেলে অর্থনৈতিকভাবেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো লাভবান হবে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার প্রবাহ বাড়বে এ অঞ্চলে। গঙ্গা অববাহিকা এলাকায় কমিয়ে দেবে বন্যার প্রকোপ। তবে এ অঞ্চলের মানুষ দরিদ্র বলে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ব্যয়ভার গ্রহণ করতে পারবে না। এজন্য বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া হলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো লাভবান হবে। এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের পাশাপাশি ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা এ অঞ্চলের পারস্পরিক আস্থা রক্ষায় কার্যকর হবে বেশি। অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে সব ধরনের আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে তিনি ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল মিলে গঙ্গা কমিশন করার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে বলেন।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.