13th Jul 2008

তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের ভবিষ্যৎ

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়েব এর্দোগান তার দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, দেশটির অধিকাংশ দৈনিক সে খবর ফলাও করে প্রচার করেছে।
জনাব এর্দোগান বলেছেন, বর্তমানে কেউ তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একেপিকে উপেক্ষা করতে পারবে না। তিনি বলেন, এখনই তুরস্কে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার দল শতকরা ৪৫ ভাগ ভোট পাবে। এমনকি একেপি দলকে নিষিদ্ধ করা হলেও নতুন নামে আমরা পুণরায় রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করবো এবং আমাদের এ পথচলা অব্যাহত থাকবে। জনাব এর্দোগান ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একথা বলেন। রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা বলছেন, দেশ ত্যাগের আগে নিজের দলের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং দেশে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে, সেটা বোঝানোর উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের মতে,

একেপি দলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকেও রজব তাইয়েব এর্দোগানে বক্তব্য মূল্যায়নযোগ্য। সম্প্রতি একেপি দলের হাই কমান্ড থেকে আব্দুল লতিফ শানারের পদত্যাগের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ এখনো তুরস্কের গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে প্রচারিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের সাংবিধানিক আদালতে সেদেশের ক্ষমতাসীন দল একেপি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রাক্কালে জনাব শানার পদত্যাগ করলেন। তাদের মতে, একেপি দলকে নিষিদ্ধ করা হলে তুরস্কে মধ্যবর্তী নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়বে। আর সে নির্বাচনের আগেই যাতে একেপি দলের নেতারা একটি নতুন দল গঠন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আব্দুল লতিফ শানার পদত্যাগ করেছেন। জনাব শানার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ান। তিনি রজব তাইয়েব এর্দোগানের আগের মন্ত্রীসভায় অর্থ উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তুরস্কে তার জনপ্রিয়তাও অনেক। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে পরপর দুই বার যে দলটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অন্য কোন দলের সাহায্য ছাড়াই সরকার গঠন করেছে, তাকে নিষিদ্ধ করার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দলটির নেতারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। একেপি দলের নেতারা মনে করছেন, তারা গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের মাঝে যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তার প্রেক্ষাপটে তাদের দলকে নিষিদ্ধ করা সহজ হবে না। কারণ, সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুরস্কের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হবে। তবে তুরস্কে কোন বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজমুদ্দিন আরবাকানের দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষিদ্ধ করার এ রাজনীতি যে অভিজ্ঞতা রেখে গেছে তা হলো, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলে তার রাজনৈতিক দর্শন ও চিন্তাধারাকে মুছে ফেলা যায় না। এরই আলোকে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়েব এর্দোগান তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তুরস্কের সেই সব রাজনৈতিক নেতা ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে হুশিয়ারি দিয়েছেন, যারা ক্ষমতাসীন একেপি দলকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে এ দলের রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে ধ্বংস করে ফেলতে চায়।#

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.