13th Jul 2008
সংবিধানে ব্যাপক সংশোধনই নির্বাচনের অন্যতম উদ্দেশ্য পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্যের সংসদ আসছে?
![]()
ফয়সল আবদুল্লাহঃ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ১৮ ডিসেম্বর। তবে প্রোবের সূত্র অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ হবে ১ কিংবা বড়জোর ২ বছর। অর্থাৎ এটি হবে একটি ট্রানজিশনাল গভর্নমেন্ট তথা পরিবর্তন আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সংসদের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে ভবিষ্যতের রাজনীতির রূপরেখা থেকে শুরু করে সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসা। ঠিক যেমনটি হচ্ছে নেপালে।
তবে নতুন সংসদের ক্ষমতার সীমা আরো সঙ্কুচিত হবে বলে জানিয়েছে প্রোব। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে,
সাংবিধানিক পরিবর্তন বলতে নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই মুখ্য। এমনকি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে উপজেলা চেয়ারম্যানরাও। এজন্যই জাতীয় সংসদের আগে উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে।
প্রোবের বেশকটি সূত্রের মতে, সংবিধান পরিবর্তন হবে বহিঃশক্তি ও বিদেশিদের স্বার্থরক্ষার খাতিরেই। অন্যদিকে, পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিচিত মুখ না থাকায় নির্বাচন নিয়ে সাধারণদের মধ্যে থাকবে না উৎসবের আমেজ। মাইনাস-টু ফর্মুলা ব্যর্থ; ভোটারদের মনে এখনো বন্দি নেত্রীদের প্রতিচ্ছবি; কারা সংসদে বসতে যাচ্ছে তা কেউ আন্দাজ করতে পারছে না; এসব মিলিয়ে ভোটারদের মধ্যেও চলছে এক ধরনের মানসিক টানাপড়েন। তাই বহিঃশক্তির বিষয় কেউ বিশ্বাস করুক আর নাই করুক, এটি সত্য যে জনগণের মনে এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আসন পোক্ত হয়নি। এ ভিত গড়ার লক্ষ্যেই তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিটিজেন চার্টার তৈরি করতে পারে সরকার। আর প্রোবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিবর্তনে অঙ্গীকারাবদ্ধ আসন্ন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন আওয়ামী লীগের কেউ এবং প্রেসিডেন্ট হবেন বিএনপিপন্থী। তাই নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও এ সংক্রান্ত সবকটি ইসু এখন অস্থিরতার আবর্তে। রাজনীতিও কোনো ছাঁচে নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও চলছে আপন পথে।
[প্রোবের সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত আনোয়ার পারভেজ হালিমের ট্রানজিশনাল গভর্নমেন্ট ফর কনস্টিটিউশনাল রিফর্মস শীর্ষক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ]
সম্পাদনাঃ দুলাল আহমদ চৌধুরী
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.