13th Jul 2008
সরকার প্রধান নারী হওয়া যাবে না
রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা চালুর দাবি খেলাফত মজলিশের
।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে বাংলাদেশ খিলাফত আন্দোলনের সংলাপ গতকাল শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এটা ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের সাথে সরকারের ২২তম সংলাপ। গতকালের সংলাপে খেলাফত আন্দোলন নির্বাচন ও অন্যান্য ইস্যুতে ৩০ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড· ফখরম্নদ্দীন আহমদ সংলাপে সরকারের পড়্গে নেতৃত্ব দেন। তার সাথে ছিলেন শিড়্গা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড· হোসেন জিলস্নুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আনোয়ারম্নল ইকবাল ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড· ইফতেখার আহমদ চৌধুরী। খেলাফত আন্দোলনের পড়্গে ছিলেন দলের আমীর মাওলানা শাহ আহমাদুলস্নাহ আশরাফ, মহাসচিব মুহাম্মদ জাফরম্নলস্নাহ খান, নায়েবে আমীর আনিসুর রহমান জিন্নাহ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আবু জাফর কাসেমী ও মাওলানা ফখরম্নল ইসলাম।
দেড় ঘণ্টার সংলাপশেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা ড· হোসেন জিলস্নুর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান,
খেলাফত আন্দোলনের সাথে ইতিবাচক সংলাপ হয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অভিজ্ঞতায় বেশ কিছু অপরাজনীতির লড়্গণ দেখা যাচ্ছে। এটা জনগণকে চিন্তিôত করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রয়োজন। তাই নির্বাচনে সুষ্ঠু ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন দেয়া জরম্নরি। এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। সব দলের সাথে দ্বিপাড়্গিক সংলাপশেষে সব দলকে নিয়ে বহুপাড়্গিক সংলাপ করার পড়্গে মত এসেছে। এতে হরতাল বন্ধ করা, সাংবিধানিক কমিশন গঠনসহ কয়েকটি ইস্যুতে ঐকমত্য সৃষ্টি হবে।
সংলাপে ভারতকে ট্রানজিট প্রদানসহ বিদেশীদের হস্তôড়্গেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অড়্গুণ্ন রাখতে যা যা করণীয় সরকার সবই করবে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোন পদড়্গেপ নেয়া হবে না। সংলাপে সাত হাজার পঙ্গু ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তôাব এসেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সংকট কাটাতে সরকার এ বিষয়টি বিবেচনা করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেয়া হয়েছে। হতদরিদ্রদের জন্য ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসংস্থান কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন গ্রম্নপের কল্যাণের জন্য সরকার ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে।
খেলাফত আন্দোলনের ৩০ দফা
সংলাপে খেলাফত আন্দোলনের পেশ করা ৩০ দফা প্রস্তôাবের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হল সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী নীতিমালা প্রণয়ন, কালো টাকার মালিক, দুর্নীতিবাজ, মাদকাসক্ত, ঋণখেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা করা, মনোনয়ন বাণিজ্য, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট রোধে ম্যাজিস্ট্রেসি ড়্গমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, জরম্নরি অবস্থা শিথিল ও ঘরোয়া রাজনীতি উন্মুক্ত করা, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনের মতো রাষ্ট্রপ্রধানকে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করা এবং রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা চালু করা, রাষ্ট্র সরকার-প্রধানকে পুরম্নষ হওয়া বাধ্যতামূলক করা, নারী-নীতি পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ বাস্তôবায়ন করা, সংবিধানে আলস্নাহই সব ড়্গমতার উৎস সংযোজন করা, বিচার ব্যবস্থায় পৃথক শরীয়া আদালত গঠন করা, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীবকে পদাধিকারবলে প্রধান বিচারপতির সমমর্যাদা প্রদান, হরতাল, অবরোধ বন্ধে আইন করা, ধর্ম ও রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতায় লিপ্ত এনজিওদের নিবন্ধন বাতিল করা, ব্র্যাকের অধীনে প্রাথমিক শিড়্গাকে ন্যস্তô করার সিদ্ধান্তô বাতিল করা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও ইতিহাস প্রকাশ করা, প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা প্রভৃতি।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.