13th Jul 2008

বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত ভারত কর্তৃক ট্রানজিট ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব এ দেশের স্বাধীনতা নস্যাতের ষড়যন্ত্র

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভারতকে ট্রানজিট দেয়া থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলেন, ভারত কর্তৃক ট্রানজিট ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব হচ্ছে কষ্টে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। এ দেশের জনগণ কখনো এ ষড়যন্ত্র সফল হতে দিবে না। 
 
খেলাফত মজলিসঃ গত শুক্রবার স্যায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেযাম উদ্দিন, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির, প্রচার সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হক আজিজ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাফেজ মাহমুদুল হক, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মনসুরুল হক খান, মুফতি হাবিবুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা ইসমাইল নূরপুরী, মাওলানা রশিদ আলম কাসেমী ঢাকা মহানগরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

সভায় ভারতীয় হাইকমিশনার কর্তৃক প্রস্তাবিত ট্রানজটি সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বলা হয়, যে,

 ভারতকে ট্রানজিট দেয়া মানে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া। তাই বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট আহ্বান জানানো হয় যে, ট্রানজিটের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকুন, দেশের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারই এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখে। সভায় দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি নিরসনে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিমত পেশ করে বলা হয়, দেশের জনগণের জীবন যাত্রা দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। তাই অতিদ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয় সীমার মধ্যে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।

সভায় বলা হয় যে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নতুন করে দেশের মানুষের উপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। যা কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঢাকাসহ সারাদেশে বর্তমানে আইন-শৃক্মখলার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে মন্তব্য করে অনতিবিলম্বে আইন-শৃংখলার উন্নতির জন্য কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয। সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনকে মজবুত এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে আগস্ট মাসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সারাদেশে সফর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে আগামী ২৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বৈঠক আহ্বান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মুসলিম লীগঃ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান ও মহাসচিব আতিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডের ওপর দিয়ে ভারত তাদের পূর্বাঞ্চলীয় ভূ-খণ্ডে যাওয়া আসার জন্য ট্রানজিটের নামে মূলত করিডোর চাচ্ছে। ভারত কর্তৃক করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব হচ্ছে কষ্টে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের বর্তমান অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের মনে রাখতে হবে যে, যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুপযোগী থাকার কারণে বাংলাদেশকে মাত্র ছয় মাসের জন্যে কলকাতা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি ভারত। বিগত ৩৭ বছরে বাংলাদেশকে ৩ বিঘা করিডোর দেয়নি। একটি স্বাধীন দেশের ওপর দিয়ে নিজ দেশের অন্য ভূ-খণ্ডে অবাধে যাতায়াতের জন্য করিডোর চাচ্ছে, এটা নজিরবিহীন। করিডোর দেয়ার প্রশ্নে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহর লাল নেহরুর এই উক্তিটি বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, অর্থনৈতিক লাভ ও সুবিধার টোপ ফেলে করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পেলে ভারত সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের অব্যাহত আপত্তি অগ্রাহ্য করে আমাদেরকে নদীর পানি থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত ইতোমধ্যে ৩৮টি নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং অবশিষ্ট ১৬টি নদীতে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। বিগত ৩৭ বছরের আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশের জনগণ ভারতকে বু হিসেবে নয় বরং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর উত্তরসূরি মনে করে। নেতৃদ্বয় আরো বলেন, ভারতকে করিডোর ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সকল জনগণ শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে- এই বাস্তব সত্যটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে উপলব্ধি করতে হবে।

ইসলামী ঐক্যআন্দোলনঃ ইসলামী ঐক্যআন্দোলন মজলিশে আমলের এক সভা গত শুক্রবার আন্দোলনের আমীর অধ্যক্ষ আনওয়ার উল্লাহর সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুল হক মুরাদ, নায়েবে আমীর এডভোকেট ওমর আলী খান, ডাঃ সাদ উল্লাহ্‌, মাওলানা জালাল উদ্দিন আকবরী, ডঃ একেএম মাহবুবুর রহমান, মাওলানা খলিলুর রহমান প্রমুখ। সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি ও এ ব্যাপারে সরকারের উদাসীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবে বিশ্বব্যাপী ডলারের মূল্যপতন সত্ত্বেও সরকার ডলারের উচ্চ মূল্য ধরে রাখার নীতিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং জনস্বার্থে ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়ার, তেল গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের, ভতুêকি দিয়ে প্রয়োজনীয় চাল, গম ও ভোজ্য তেল আমদানির এবং নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানানো হয়। অপর এক প্রস্তাবে জমির মিউটেশন ফি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সভায় গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে সরকার কতৃêক ব্যাপকভাবে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, এ প্রবণতা ব না হলে ভবিষ্যতে গোটা দেশের ভাগ্য ঋণ দাতাদের নিকট বক হয়ে যাবে। ভারতকে ট্রানজিট প্রদান ও বহর্শক্তির স্বার্থে গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠার চিন্তা পরিত্যাগে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি তার মূল দায়িত্ব, অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সমঝোতায় উপনীত হওয়ায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ন্যায় তার দায়িত্ব বহিভূêত বিতর্কিত কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই বিতর্কিত হয়ে পড়ায়, সরকারের প্রতি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।

সিসিআরএমঃ ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার আবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কনসাস সিটিজেন রাইটস্‌ মুভমেন্ট-সিসিআরএম মহা-পরিচালক এইচএম সাঈফ আলী খান ও নির্বাহী পরিচালক গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ভারত থেকে পুশইন, সীমান্ত এলাকায় হত্যা, ফারাক্কা সমস্যা, টিপাইমুখসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি সমস্যা, তিন বিঘা করিডোরসহ যেখানে ভারতের সাথে অনেক সমস্যা রয়েছে সেখানে ভারতের ট্রানজিট দেয়ার দাবি কিছুতেই গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না। যে অর্থনৈতিক সুবিধার কথা বলা হচ্ছে তা হলো, বাংলাদেশের রাস্তাঘাট অবকাঠামো সুবিধা ভারত ব্যবহার করবে, বাংলাদেশ হয়তো বছরে তার জন্য একটা ভাড়া পাবে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের তেমন কোন প্রস্তুতি নেই। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৩৭ বছরেও ভারত সৎ প্রতিবেশী সুলভ কোন আচরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর দিয়ে ট্রানজিট বা করিডোর দিলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা হুমকির সম্মুক্ষীণ হবে। দেশের স্পর্শকাতর স্থানগুলো সম্পর্কে বিদেশীরা পর্যাপ্ত ধারণা পেয়ে যাবে। আর তা আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপরও হুমকি হতে পারে।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.