13th Jul 2008
মার্কিন গবেষণাগারে মুসলিম বিজ্ঞানী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন সরকার আমেরিকার পারমাণবিক ল্যাবরেটরীগুলোতে ইরানী বিজ্ঞানী ছাড়াও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর বিজ্ঞানীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছে। গত শুক্রবার ওয়ার্ল্ডনেট ডেইলীর এক রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরীর একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুসলিম বিজ্ঞানীদর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “জাতীয় ল্যাব কমপ্লেক্সের মধ্যে ইরানীদের অবস্থান বিরাট উদ্বেগের ব্যাপার।” তিনি জানান, এ বিষয়ে কতৃêপক্ষ ইতোমধ্যে বহু নির্দেশনা জারি করেছে এবং “জাতীয় নিরাপত্তা”র স্বার্থেই নাকি এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা রয়েছে। গত মে মাসে জ্বালানি ডিপার্টমেন্ট জাতীয় নিরাত্তার অজুহাতে একজন মিশরীয় বংশোদ্ভূত পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে অপসারণ করেছে।
শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা অপসারণই নয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে মুসলিম বিজ্ঞানীদের গ্রেফতার ও হয়রানিও শুরু করে দিয়েছে। পলো ভার্ডি নিউক্লিয়ার জেনারেটিং স্টেশনের একজন মুসলিম বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে
ইরানে সফটওয়ার কোড পাচারের অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণ করতে না পেরে এবং ইরানের প্রবল প্রতিবাদের মুখে কতৃêপক্ষ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ প্রসঙ্গ মার্কিন কর্মকর্তাদের সাফ কথা হচ্ছে, “তারা বিরাট ক্ষতি করে পারে। কারণ তারা ল্যাব থেকে অনেক গোপন বিষয় জেনে যেতে পারে।” যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের, প্রধানত ইসরাইলের অভিযোগ হচ্ছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান সব সময়ই জোর দিয়ে বলছে যে, ইরানের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জ্বালানির চাহিদা মোকাবিলার জন্যই ইরান পারমাণবিক উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের পারমাণবিক উন্নয়নকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি এ উত্তেজনা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার মহড়া চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও পারস্য উপসাগরে রথতরী পাঠিয়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করছে। জবাবে ইরানও কয়েকটি মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার এক ঘনিষ্ঠ মুখপাত্র হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরানে কোন হামলা হয়, তাহলে ইসরাইলে এবং পারস্য সাগরে মার্কিন নৌবহরে আগুন জ্বলবে। এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইস বলেছেন, আমরা আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করব।
ইরানী বিপ্লবী গার্ড গত বুধ ও বৃহস্পতিবার পারস্য সাগরে কয়েকটি উপকূল থেকে সাগরে, ভূমি থেকে ভূমি ও সাগর থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। তেহরান বলেছে, গত বুধবার মোট নয়টি মিসাইলের পরীক্ষা চালানো হয়, যার মধ্যে দূরপাল্লার শাহাব-৩ মিসাইলও রয়েছে। ইরান দাবি করছে যে, শাহারের রেঞ্জ ২ হাজার কিলোমিটার। এর অর্থ ইচ্ছে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাসমূহ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতায় রয়েছে। ইরানের প্রচার মাধ্যমগুলো বৃহস্পতিবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর খবর দিয়েছে। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনের সামিল। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র টনী ফ্লাটো বলেন, আমরা চাই ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ ব করুক এবং এই উস্কানিমূলক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও ব করুক। যা ইরানীদের আরো বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। আমেরিকা কখনো ইরান হামলা পরিকল্পনা ত্যাগের কথা ঘোষণা করেনি বরং কয়েকটি রিপোর্ট থেকে এটা নিশ্চিত যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। -ইসলাম অনলাইন
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.