13th Jul 2008
আসামে আবার বাংলাদেশী মুসলিম খেদাও আন্দোলন
দু’দশকের বিরতির পরে আসামে আবার ‘বাংলাদেশী খেদাও’ আন্দোলন শুরু করতে চলেছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)। এতে সক্রিয়ভাবে অংশ না নিলেও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যের দুই বিরোধী দল আসাম গণপরিষদ ও প্রফুল্ল মহন্তর আসাম গণপরিষদ (প্রগতিশীল)।
আসুর সভাপতি শঙ্করপ্রসাদ রায় গত শুক্রবার জানান, অনুপ্রবেশকারীদের আসাম ছাড়া করতে সরকারকে অনেক দিন সময় দেয়া হয়েছে। সরকার কথা রাখেনি। বাধ্য হয়েই জেলায় জেলায় নতুন করে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে আসু। তিনি বলেন, “১২ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের সবকটি জেলায় ছাত্রদের বোঝাব, বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ আমাদের সংস্কৃতি ও সমাজে কতটা ক্ষতি করছে।” আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জল ভট্টাচার্য জানান, প্রথম অধিবেশনটি হবে শিবসাগর জেলায়। এরপর অন্যান্য জেলায় ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশী বিরোধী ‘র্যালি’ চলতে থাকবে।
১৯৭৯ থেকে ’৮৫ সাল পর্যন্ত আসামে বিদেশী বিতাড়ন অভিযানের পর ’৮৫ সালে আসু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে আসে। ঠিক হয়,
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পরে আসামে আসা বাংলাদেশীদের রাজ্য থেকে বহিষ্কার করতে হবে। এটি ‘আসাম অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিত। কিন্তু শঙ্করের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশীদের আসা ব হয়নি। সরকারও তাদের বহিষ্কারে সচেষ্ট হয়নি। মাত্র হাজার দুয়েক বাংলাদেশীকে এ পর্যন্ত বিতাড়িত করা হয়েছে।” আসুর মতে, কংগ্রেস সরকার ‘বেআইনি অনুপ্রবেশ আইন-১৯৮৩ (আইএ মডিটি অ্যাক্ট)’ তুলে দিয়ে রাজ্যে ‘বিদেশী আইন’ লাগু করায় ভুয়া নাগরিকত্ব জোগাড় করে বিদেশীদের রাজ্যে থেকে যাওয়া সহজতর হয়েছে।
আসু থেকেই জন্ম অগপ’র। আসু সভাপতি প্রফুল্ল মহন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে গিয়েছিলেন। আসুর সঙ্গে অগপ-র সেই সম্পর্কের জের টেনে অগপ মুখপাত্র অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের জন্মই হয়েছিল ওই আন্দোলনের ফলে। তাই আমরা আসুর পাশেই থাকব। তবে কংগ্রেস নোংরা রাজনীতি করে এতে সাম্প্রদায়িক রং চাপাতে পারে। ভবিষ্যতে অশান্তি সৃষ্টি হলে জনগণ আসুকে ভুল বুঝতে পারে।” অগপ-প্রগতিশীলের রাজনৈতিক সচিব প্রণব গোস্বামী বলেন, ‘সরকার কথা রাখেনি। পরিস্থিতির কারণেই আসু এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হল।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি রমেন ডেকার কথায়, “বাংলাদেশী মুসলিমদের বিতাড়নে আমাদের আপত্তি নেই। তবে বাংলাদেশী হিন্দুরা এদেশের আশ্রিত। তাদের তাড়ানো চলবে না।” অন্য দিকে, কথা না রাখার বিষয়টি মানতে নারাজ কংগ্রেস। কংগ্রেসের মুখপাত্র মেহিদি আলম বরা বলেন, ‘আসাম অ্যাকর্ড মেনে চুক্তি সাক্ষর করার পরে এই কথা অর্থহীন?” বরা জানান, ’৫১ সালে নেহরু-লিয়াকত চুক্তির আগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়ন করা হয়। ’৫৮ সালে ফের ‘পাকিস্তানী খেদানো’ হয়। ১৯৬০-এ বিধানসভায় ঘোষণা হয়, আর কোনও বিদেশি এখানে নেই। ফের ’৭১-এর যুদ্ধের পরে গ্রামে খুঁজে খুঁজে বিদেশি-স্বদেশী আলাদা করা হয়। বরার কথায়, “চুক্তি অনুযায়ী, ’৭১ সালের পরে আসা কোনও অবৈধ অনুবেশকারীকে তাড়ালে আমাদের আপত্তি নেই।” আনন্দবাজার পত্রিকা।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.