14th Jul 2008

বাংলাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুমোদন : রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া

১৪ জুলাই : রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং ‘না’ ভোটের বিধান রেখে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবশেষে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-১৯৭২ সংশোধন করে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-২০০৮ অনুমোদন করেছে। রোববার উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। অধ্যাদেশের আওতায় নির্বাচনে অংশ নিতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন থেকে নিবন্ধিত হতে হবে। আর নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে বিগত আটটি নির্বাচনে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়ী হতে হবে। অথবা সংশ্লিষ্ট আসনের প্রদত্ত মোট ভোটের শতকরা পাঁচ ভাগ পেতে হবে। সংশোধিত এই অধ্যাদেশে ‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে,

কোন ভোটার যদি কোন প্রার্থীকে পছন্দ না করেন, সেক্ষেত্রে তিনি ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। রাজনীতিবিদরা এই অধ্যাদেশকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ কিছু ধারার সমালোচনা করেছেন। নবগঠিত প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি পিডিপির আহবায়ক ডক্টর ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী বলেন, অধ্যাদেশে ‘বিগত আটটি নির্বাচনের মধ্যে একটি আসনে জয়ী হলে সে সকল রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত হতে পারবে’ এই ধারাটি পরিবর্তন করা উচিত। এছাড়া পাঁচ ভাগ ভোট পেতে হবে বলে যে কথা বলা হয়েছে তারও বিরোধীতা করেন তিনি। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে পিডিপি নির্বাচন কমিশনের এই সব ধারা কতটা পুরণ করতে পারবে, এ বিষয়ে ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী বলেন, তার দল সকল শর্ত মানতে পারবে। তিনি বলেন, পিডিপি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য যেসব নিয়ম-কানুন দিয়েছে তা পিডিপি পুরণ করতে পারবে। অধ্যাদেশে নির্বাচনীয় ব্যয় ১৫ লাখ টাকা করার যে বিধান রাখা হয়েছে এ বিষয়ে রাজনীতিদিরা বলছেন, নির্বাচনে একজন প্রার্থী কত টাকা খরচ করবে তা বেধে দেয়া ঠিক নয়। কারণ সঠিক হিসেব রাজনীতিবিদরা দেয় না। আর এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ইব্রাহীম মনে করেন, দীর্ঘ দিনপর রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা নিয়মনীতির মধ্যে আনার লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে যে নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে তা যুক্তিযুক্ত। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তার মতে, ‘না’ ভোটের বিধানটি জনগণ এবং প্রার্থীদের মধ্যে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে সৎ ও যোগ্য লোক নির্বাচিত হতে পারবে। তিনি বলেন, এতদিন মার্কার পেছনে যারা ছুটে বেড়াত, তারা এখন প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপের সময় আওয়ামী লীগ যে সব প্রস্তাব রেখেছিলো তার সাথে বর্তমান অধ্যাদেশের কিছুটা অমিল রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচনী আইন সংস্কারের বিষয়ে যখন দুইবার করে সংলাপ করেছিল তখন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সুপারিশমালা দিয়েছিল। সেই সুপারিশমালার আলোকেই গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়েছে। কাজেই এ সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন আপত্তি থাকার কথা নয়। এ বিষয়ে ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং এসোসিয়েশনের মহাসচিব এম এ মতিন বলেন, নতুন অধ্যাদেশে ‘না’ ভোটের বিধান রাখা ঠিক হয় নি। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যেখানে বেশীর ভাগ ভোটারই অশিক্ষিত কাজেই তারা এ বিষয়ে বুঝতে পারবে না। এছাড়া নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন কতটা কার্যকরভাবে এসব নিয়ম কানুন রাজনৈতিক দলগুলোকে পালন করতে বাধ্য করতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয় নিয়ে যাতে নতুন করে তর্কে বিতর্কে জড়িয়ে না পরে সে জন্য প্রয়োজনীয় মতামত বা আবারো এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পরই এই অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া উচিত। (বেনজির আহমেদ,ঢাকা থেকে)

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.