15th Jul 2008
এবার হজ্জ্ব পালনের জন্য রোববার পর্যন্ত ৪৪ হাজার ব্যক্তি মোয়াল্লেম ফি জমা দিয়েছেন
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ্জ্ব কর্মকর্তা বজলুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, হজ্জ্ব পালনের জন্য এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব যেতে গত রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি মোয়াল্লেম ফি জমা দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এর মধ্যে ৩৮ হাজার ৩৪৭ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং প্রায় ছয় হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ২০ হাজার ২৫৬ টাকা করে মোয়াল্লেম ফি জমা দিয়েছেন।
বজলুর রহমান বিশ্বাস জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তির টাকা জমা দেয়া তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সকল জেলার তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজার পর্যন্ত উঠতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছর ৬৫ হাজার হাজী পাঠানোর কথা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার হাজী পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার হাজী পাঠানো সম্ভব হয়। এ বছরও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার পাঠানোর লক্ষ্য থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ছয় হাজার।
এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫০ হাজার হাজী পাঠানোর জন্য ২৩৪টি হজ্জ্ব এজেন্সিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। হজ্জ্ব এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) টাকা জমা দেয়ার সময় সীমা আরো এক মাস বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও রোববার পর্যন্ত তারা প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার জনের নিবন্ধণ করতে পেরেছে।
এ ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ আতাউর রহমান জানান, সাড়া পাওয়া না গেলেও হাজীদের মোয়াল্লেম ফি জমা নেয়ার সময় আর বাড়ানো হবে না। কারণ ইতোমধ্যে অন্যান্য দেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখনো পাঠাতে পারেনি। এ অবস্থায় সুষ্ঠু হজ্জ্ব ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সরকার দ্রুত তালিকা তৈরী করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আরো জানান, হজ্জ্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরই কিছু অনিয়ম ও ত্র“টি হওয়ায় সরকার এবার একটু কড়াকড়ি আরো করেছে। অন্য বছর হজ্জ্ব এজেন্সিগুলো অনুমান নির্ভর হাজীর তালিকা দিয়ে টাকা জমা করতো। কিন্তু এবার সুনির্দিষ্টভাবে নামসহ তালিকা জমা দিতে বলেছে। এই তালিকাই সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তালিকায় নাম রয়েছে এমন ব্যক্তিরাই হজ্জ্বে যেতে পারবেন।
মুহাম্মদ আতাউর রহমান জানান, এ অবস্থায় অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনায় ত্র“টি দূর করতে হাজীদের টাকা জমা দেয়ার সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। এতে লক্ষ্য পূরণ না হলেও মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই। কেউ হাজী পাঠাতে না পারলে মন্ত্রণালয় কি করবে? জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিমানের পক্ষ থেকে হাজীদের বিমান ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এখনো পূর্বের ভাড়া ৯৩ হাজার ১৫০ টাকায় স্থির রয়েছি। তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিমানের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই কার্যকর করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আরো জানান, সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার হাজীর জন্য বাড়ি ভাড়া করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চার হাজার ২৩২ জনের জন্য বাড়ি ভাড়া করা সম্ভব হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া করা শুরু হয়নি। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বছর হাজীর থাকার জায়গার ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কোন এজেন্সির পাঠানো হাজীর থাকার সমস্যা হলে সৌদি কর্তৃপক্ষই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
হাজীর সংখ্যা হ্রাসের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের হজ্জ্ব শাখার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডিসেম্বরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ বছর হাজীর সংখ্যা কম হবে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.