17th Jul 2008

বন্দী বিনিময় চুক্তি ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক পরাজয় : হিজবুল্লাহ

লেবাননের হিজবুল্লাহ ও দখলদার ইসরাইল আজ বন্দী বিনিময় শুরু করেছে। হিজবুল্লাহ আজ এরিমধ্যে রেডক্রসের মাধ্যমে দু’জন ইসরাইলী সেনার লাশ ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং ডি.এন.এ পরীক্ষার পর ইসরাইল এ দুই সেনার লাশকে হিজবুল্লাহর হাতে আটক দুই ইসরাইলী সেনা ইহুদ গোল্ড ওয়াসসার ও এলডাড রেগেভের লাশ বলে স্বীকার করেছে। এ দুই ইসরাইলী সেনা জীবীত না মৃত ছিল সে সম্পর্কে হিজবুল্লাহ আজকের দিন পর্যন্ত নীরব ছিল। হিজবুল্লাহ ২০০৬ সালে এক অভিযান চালিয়ে এই দুই ইসরাইলী সেনাকে আটক করায় ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ইসরাইলের ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে এ যুদ্ধ ৩৪ দিন স্থায়ী হয়। ইসরাইল তার দুজন সেনার লাশের বিনিময়ে হিজবুল্লাহর চারজন মুজাহিদ এবং ত্রিশ বছর ধরে ইসরাইলে বন্দী থাকা হিজবুল্লাহর বন্দী সামির কান্তারকে লেবাননের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানা গেছে। হিজবুল্লাহর সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল মোট ১৯৯ জন লেবাননী, ফিলিস্তিনী ও আরব শহীদের লাশ বা দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিতে রাজী হয়েছে।

 

হিজবুল্লাহ এরি মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রখ্যাত মহিলা শহীদ মোগারাবি ও তার তিন সহযোদ্ধার লাশসহ ২০০৬ সালে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে শহীদ ৮ জন হিজবুল্লাহর মুজাহিদের লাশ ফিরে পেয়েছে। শহীদ মোগরাবি ১৯৭৮ সালের মার্চ মাসে ১১ জন সহযোদ্ধাসহ ইসরাইলে এক কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ৩৬ জন দখলদার ইহুদিবাদীকে হত্যা করেছিলেন এবং সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তিনি ও তার সাত সহযোদ্ধা শহীদ হন।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল, বৈরুত বিমানবন্দর এবং সীমান্তের নাকুরা ক্রসিংয়ে হিজবুল্লাহর চার বীর মুজাহিদকে ব্যাপক সম্বর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উৎসবমুখর লেবাননে উৎসব পালনের জন্য আজ সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লেবাননের এই চার বীর মুজাহিদকে সর্ম্বধনা জানানোর জন্য লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধামন্ত্রী হস্তান্তরের স্থানে যাবেন বলে জানা গেছে। ইসরাইল এই চার বন্দীকে সীমান্তের কাছে নিয়ে এসেছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তিকে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক পরাজয় এবং হিজবুল্লাহর আরো একটি বড় বিজয় বলে ঘোষণা করেছে। ইসরাইলের মন্ত্রীসভা আজ যখন হিজবুল্লাহর সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুমোদন করেছে তখন হিজবুল্লাহর অন্যতম সেনা কমান্ডার শেখ নাবিল কাউক বন্দী বিনিময় করতে ইসরাইলকে বাধ্য করার প্রসঙ্গে বলেনে, এ চুক্তি সামরিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে হিজবুল্লাহর হাতে ইসরাইলের পরাজয়ের আরো একটি প্রমাণ। আরব দেশগুলোর অনেক নেতৃবৃন্দ বন্দী বিনিময়ে ইসরাইলকে বাধ্য করতে সফল হওয়ায় হিজবুল্লাহর প্রতি অভিন্দন জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনের হামাস বলেছে, হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের ঘটনা ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের একটি বড় বিজয়। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় এ নিয়ে হিজবুল্লাহ মোট আটবার ইসরাইলকে বন্দী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর ও তা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে সক্ষম হলো। হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ আজ হিজবুল্লাহর বন্দী মুক্তির উৎসব উপলক্ষে দক্ষিণ বৈরুতে ভাষণ দেবেন বলে কথা রয়েছে । #

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.