17th Jul 2008

সাকা পিন্টু হাশেম জামিন পেলেন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন পিন্টু ও পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ১ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ পৃথক তিন মামলার কার্যক্রম ১ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জন ও তার তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথকভাবে এ তিনটি দুর্নীতি মামলা করা হয়।
এদিকে অবৈধ সম্পদের মামলায় ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জামিনের মেয়াদ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত খোকার বিরুদ্ধে করা মামলাটিও স্থগিত থাকবে।

 


বিচারপতি শরিফউদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ গতকাল বুধবার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, পিন্টু ও হাশেমকে জামিনের আদেশ দেন। এর পাশাপাশি কেন এ মামলাগুলো বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দুই সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে।
হাইকোর্টের একই বেঞ্চ খোকার জামিন আদেশটি ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। এর আগে ৭ জুলাই নিম্ন আদালত খোকার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে হাইকোর্ট তাকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত জামিন দেন। একই সঙ্গে তার মামলার কার্যক্রমও ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, পিন্টু ও হাশেমের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার রফিক-উল হক গতকাল আদালতে শুনানিতে বলেন, এ মামলাগুলোতে দুদক আইন অনুযায়ী চার্জশিট দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দুদক আইনে আছে, কোনো মামলা দায়েরের ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ মামলাগুলোতে দুদক আইনের এ বিধান মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে এ মামলাগুলো বাতিলযোগ্য।
অন্যদিকে দুদকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম বলেন, আইনে ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে, এ কথা সত্য। কিন্তু আইনের এ বিধান বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনামূলক। এটি মানতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে পুরো মামলা বাতিল হয়ে যাবে, এমনটি গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তার তথ্য গোপনের অভিযোগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জুনে রমনা থানায় মামলা করে দুদক। একই অভিযোগে দুদক হাজারীবাগ থানায় পিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করে। হাশেমের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি করা হয়।
এর আগে গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাকাচৌকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছর ২৮ মে এম এ হাশেম গ্রেপ্তার হন। অন্যদিকে পিন্টু আদালতে গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন। তারা তিনজনেই বর্তমানে কারাবন্দি।
অন্যদিকে ২ জুলাই খোকার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলাটি করে দুদক। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়। অন্যদিকে মামলায় তার স্ত্রীর অংশ হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত থাকায় পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ২৮ হাজার ২৬১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৬০৯ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে এ বছরের ২ এপ্রিল রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে সম্পদের মামলা করা হয়।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.