17th Jul 2008
প্রতিরোধ সংগ্রাম বন্ধ হবে না বলে সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর ঘোষণা
লেবাননের হিযবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, ইহুদীবাদী ইসরাইলের আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম কখনো বন্ধ হবে না। ইসরাইলের সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তিপ্রাপ্ত ৫ লেবাননীকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জনাব নাসরুল্লাহ আরো বলেছেন, পরাজয়ের দিন শেষ, এখন শুধু বিজয়ের পালা। জনাব নাসরুল্লাহ বুধবার দক্ষিণ বৈরুতের ঐ সংবর্ধনা সভায় আরো বলেন, যে কারণে ২০০৬ সালে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ৩৩ দিনের যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকল লেবাননী বন্দীকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি, তা হলো প্রতিরোধ সংগ্রাম। তিনি বলেন, এ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি মহান আল্লাহ দিয়েছেন এবং তারই ইচ্ছায় তা বাস্তবায়িত হয়েছে। সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালের যুদ্ধে হিযবুল্লাহ পরাজিত হলে আমরা আজকের বন্দী মুক্তির বিজয়ের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হতাম এবং লেবাননসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যেত। লেবাননের হিযবুল্লাহ নেতা বলেন, ২০০৬ সালের যুদ্ধের ফলস্বরূপ লেবাননী বন্দীদের মুক্তির পাশাপাশি লেবাননে একটি জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠিত হয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অন্তত ২০ হাজার মানুষের বিশাল সমাবেশে জনাব নাসরুল্লাহ আরো বলেন, ৩৩ দিনের যুদ্ধের সময় হিযবুল্লাহর কথা শোনার ধৈর্য বিশ্বের কারো ছিল না এবং ইসরাইল হুমকি দিয়েছিল, তাদের দুই বন্দীকে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু ঐ যুদ্ধে হিজবুল্লাহর বিজয়ের ফলে তারা এখন আমাদের দাবি পুরনের মাধ্যমে তাদের বন্দীদের ফিরিয়ে নিয়েছে। সাইয়েদ নাসরুল্লাহ বলেন, ইসরাইলীরা তাদের বন্দীদের বল প্রয়োগের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বন্দী মুক্তির আলোচনার সময়ও তারা জানতে পারে নি, তাদের দুই বন্দী কী পরিস্থিতিতে কোথায় আছে। হিযবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, প্রতিরোধ সংগ্রাম এখন সারা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যে- যে নামেই সংগ্রাম করুক, সবার লক্ষ্য একটাই, অধিকৃত ভূখন্ড জবরদখল মুক্ত করা। তিনি লেবাননের হিযবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসের প্রতিরোধ সংগ্রামকে একই সুতায় গাঁথা বলে মন্তব্য করেন। জনাব নাসরুল্লাহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনী বন্দীসহ আরব বন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে আরব দেশগুলোর নিস্ক্রিয় অবস্থানের সমালোচনা করেন। হিযবুল্লাহ মহাসচিব প্রতিরোধ সংগ্রামীদের পরিবারবর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনাদের ধৈর্যের কারণে আমরা আজ এ বিজয় অর্জন করেছি এবং এ জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি ইসরাইলের সাথে হিযবুল্লাহর এক বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ইহুদীবাদী ইসরাইল তার দুই সেনার লাশের বিনিময়ে ১৯৯ জন ফিলিস্তিনী ও লেবাননী প্রতিরোধ সংগ্রামীর মৃতদেহ হিযবুল্লাহর কাছে হস্তান্তর করে এবং ৫ জন জীবিত লেবাননী বন্দীকে মুক্তি দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বন্দী বিনিময়ের এ ঘটনাকে লেবাননের প্রতিরোধ সংগ্রামীদের জন্য আরেকটি বিজয় এবং ইসরাইলের জন্য একটি পরাজয় হিসেবে দেখছেন। বন্দী বিনিময়ের আগে ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতা সিলভান শ্যালম হিযবুল্লাহর সাথে বন্দী বিনিময়ের ঘটনাকে ইসরাইলের ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কময় দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বন্দী বিনিময়ের দিন বুধবার লেবাননে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং সারাদেশে ঢাক ঢোল পিটিয়ে, রাস্তায় নেমে মানুষ আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করে।#
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.