18th Jul 2008

ট্রানজিট দেয়া সম্ভব নয় : বাংলাদেশ

দিল্লিতে বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেননকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন। পাশাপাশি বাণিজ্য এবং যোগাযোগের সুবিধার জন্য অর্থাৎ ত্রিপুরা-অসমে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ভারতকে এখনই ট্রানজিটের সুবিধা দিতে পারছে না বাংলাদেশ।
‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে, বর্তমান পরিচালকরা হাজারো রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় আগের বিএনপি-জামাত সরকারের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক’, ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর এক রিপোর্টের ওপর দাঁড়িয়ে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দু’দিনের এক বৈঠকে পরিবেশ আন্তরিক হলেও জঙ্গি ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইস্যুতে ভারত যে বাংলাদেশের বক্তব্য একেবারেই মেনে নিচ্ছে না, তা প্রথম দিনেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব অশোক মোহন চক্রবর্তী, ‘ক্রস বর্ডারটেররিজম’ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার সময় রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তরের আইজির দেয়া এক রিপোর্টের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতবিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলোর ১১২টি জঙ্গিশিবির বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। ভারতের অভিযোগ বাংলাদেশের সক্রিয় ভারতবিরোধী জঙ্গি শিবির বন্ধ করার দাবি জানানো হলেও তদারকি সরকার তার ওপর কোনো গুরুত্ব আরোপ করেনি। উল্টো সীমান্ত অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বেড়েই চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, একাধিকার এ সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ঢাকার তরফে পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন এ বক্তব্য মানতে চাননি। শনিবারই চার আলফা জঙ্গিকে পুশব্যাক করে অসম পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। দিয়েছে বাংলাদেশ রাইফেলস। বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের কোথাও ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর অস্তিত্ব মেলেনি। এমনকি বিএসএফ-বিডিআর-এর ডিজি পর্যায়ের বৈঠকে যে তালিকা দেয়া হয়েছিল, তা ধরে ধরে পরীক্ষা করেও সত্যতা মেলেনি।’
এরপরই প্রথম দিনের বৈঠকে উঠেছে, বহু আলোচিত ট্রানজিট ইস্যু। ট্রানজিট দেয়া যে এখন সম্ভব নয়, তা দিল্লি আসার আগে ঢাকায় বলে এসেছিলেন তৌহিদ হোসেন। তা সত্ত্বেও ‘পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে যাত্রী ও পণ্য যাতায়াতে বাংলাদেশ তাদের ভূখ- ব্যবহারের অনুমতি দিলে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আয় করতে পারবে’, বিষয়টি ভারতের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। ভারত মনে করছে, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখনই বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়, কিন্তু ভবিষ্যতে সম্ভব, তাই আলোচনা জারি রাখা হয়েছে, ভারতের তরফে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উপ শিক্ষা ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে এবারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বৈঠকের পরে, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর বাংলাদেশের তরফে সাংস্কৃতিক ও মানবিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য গৌহাটি ও শিলংয়ের মধ্যে ঢাকা অবধি বাস চলাচল শুরুর একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, ভারতের কাছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।
দু’দেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে শিগগিরই দু’দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে, বৈঠক হবে যৌথ নদী কমিশনেরও। সেই সঙ্গে আরো ঠিক হয়েছে শিগগিরই ভারতীয় সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সফর করবেন।

 

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.