20th Jul 2008

শান্তিপূর্ণ এবং বৈরিতামুক্ত বিশ্ব গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান

<<< মাদ্রিদে এক ক্যাথলিক বিশপ এর সঙ্গে করমর্দন করছেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ (বামে)

শান্তিপূর্ণ এবং বৈরিতামুক্ত বিশ্ব গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছে সৌদি আরব এবং স্পেন৷ মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন ডায়লগ-থেকে এই আহবান জানায় সৌদি আরব ও স্পেন৷

তিনদিন ব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয় ১৬ই জুলাই যার আয়োজক ছিলো ওয়ার্ল্ড মুসলিম লিগ আর স্পন্সর ছিলো সৌদি আরব৷

সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ জানান, বিশ্ব মানবতার জন্য আন্তঃধর্মীয় সমঝোতার মাধ্যমে একটি নতুন অধ্যায়ের সুচনা করার সময় এসেছে৷ এই সমঝোতা মানুষের মধ্যকার বিভ্রান্তি দুর করতে সহায়ক হবে, যা পুনরায় বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে৷


মাদ্রিদ সম্মেলনে স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লস এর সঙ্গে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। >>>

 

সৌদি বাদশাহ বলেন, ইসলাম একটি সংযমী এবং সহনশীল ধর্ম৷তিনি আরো বলেন, এর আগে সকল ধর্মকে একত্রীত করে একটি ধর্মে রুপান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিলো যা ব্যর্থ হয়েছে৷ কারণ প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের নিজস্ব মতাদর্শে বিশ্বাসী৷ আর তাই সংকট নিরসনে আন্তঃধর্মীয় সংলাপই হতে পারে অন্যতম মাধ্যম৷

বাদশাহ আব্দুল্লাহ বলেন, মানবতার বিপর্যয় কোন ধর্মের কারণে হয়নি বরং ধর্মীয় উগ্রবাদের জন্য হয়েছে৷ 

সম্মেলনে স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লস জানান, আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে সন্ত্রাস, ক্ষুধা, রোগ বালাই এবং দারিদ্র্যের মত সংকটগুলোর সমাধান করা যেতে পারে৷

মাদিদ্রের এই সম্মেলনে ২৫০ জন মুসলমান, খৃষ্টান, ইহুদি এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা অংশ নেন৷ এদের মধ্যে ১৫ জন নারী ছিলেন৷ ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগের মহা সচিব আব্দুল্লাহ আল-তুর্কি সম্মেলনে আলোচিত বিষয়গুলো একত্রিত করছেন এবং ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণ করবেন৷  

এই সম্মেলনের নানান দিক নিয়ে সৌদি সরকারের সহকারী সংস্কৃতি এবং তথ্য মন্ত্রী সালেহ আল-নামরাহ জার্মান বার্তাসংস্থা ডিপিএকে জানান, মূলত সৌদি সরকার তার সহনশীল মনোভাব সম্পর্কে বিশ্বকে অবগত করতে মাদ্রিদে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে৷ ঐতিহাসিকভাবেই সৌদি আরব একটি সহনশীল মনোভাবাপন্ন দেশ৷

এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখন দুঃপক্ষের মধ্যে গোলাযোগ হয় তখন কিছু গ্রহণযোগ্য মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হয় যারা সংকট নিরসনে দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করতে সক্ষম৷ এই সম্মেলনে সেরকমই কিছু মধ্যস্থতাকারী অংশ নিয়েছেন৷

তিনি আরো বলেন, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যেটা নিঃসন্দেহে ভালো দিক৷     

উল্লেখ্য নাইন ইলেভেনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি আরবের ভাবমুর্তি বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে৷ কেননা ওই সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়া ১৯ জন আক্রমনকারীর মধ্যে ১৫ জনই ছিলো মুসলমান৷ আর তাই সন্ত্রাসী হামলার পর সৌদি সরকার মূলত তাদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টাই করছে৷

-আরাফাতুল ইসলাম

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.