20th Jul 2008

সীমান্তজুড়ে উত্তেজনাঃ বিএসএফ’র গুলিতে ২ কৃষক নিহত

বিএসএফ’র গুলিতে বিডিআর’র দুই সদস্য নিহত হওয়ার পর গতকাল গোটা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল শনিবারই যশোরের চৌগাছা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুইজন বাংলাদেশী কৃষক নিহত হয়েছেন। আরো একজন কৃষক নিখোঁজ রয়েছেন। এ নিয়ে যশোর সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অন্য দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রঘুনাথপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিবর্ষণে দুই বিডিআর সদস্য নিহত হওয়ার পর গতকাল পুরো সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। সীমান্তের ওপারে বিএসএফ শক্তিবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এপারে বিডিআর’র শক্তিবৃদ্ধি ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ গতকাল ভারতের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মনে করে। বাংলাদেশ আশা করে, ভারত এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ নিশ্চিত করবে।

বিএসএফ’র গুলিতে দুই কৃষক নিহত
যশোর অফিস ও চৌগাছা সংবাদদাতা জানান, গতকাল ভোরে চৌগাছা উপজেলার পাঁচপীর সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফ’র মধ্যে ৩৭ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এ সময় মাঠে কর্মরত দুই কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। বিডিআর সূত্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
জানা গেছে, শনিবার ভোর ৫টার সময় উপজেলার সুখপুকুরিয়া গ্রামের মৃত জাহাবক্সের পুত্র মতিয়ার চোরাই পণ্য নিয়ে আসার সময় ভারতের মস্যমপুর ক্যাম্পের বিএসএফ তাড়া করে। বিএসএফ’র তাড়া খেয়ে মতিয়ার পালিয়ে যায়। বিএসএফ সদস্যরা গুলি করতে করতে ৪৬ নম্বর পিলারের নিকটবর্তী বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে ধানক্ষেতে কর্মরত কৃষকদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। বিএসএফ সুখপুকুরিয়া গ্রামের ভজুর পুত্র জয়নাল (২৬) ও নজির আহাম্মদের পুত্র রেজাউল (২৮)কে হত্যা করে লাশ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। পরে বিএসএফ আবারো ১৩ রাউন্ড গুলি ছুড়লে বিডিআরও পাল্টা ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ছাড়া ঘটনার সময় থেকে আক্কাছ নামে আরেক কৃষককে পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার পরে শনিবার সকাল ১০টা থেকে ৪৬ নম্বর পিলারের ৮ নম্বর সাব পিলারের কাছে বিডিআর-বিএসএফ পতাকা বৈঠক করে। বৈঠকে বিডিআর’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন যাদবপুর কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোশারফ হোসেন এবং বিএসএফ’র পক্ষে মস্যমপুর ক্যাম্পের ইন্সট্রাক্টর সমীর কুমার চক্রবর্তী।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত দুই বাংলাদেশী কৃষকের লাশ ভারতে বিএসএফ’র অধীনে ছিল। বিডিআর জানায়, নিহতদের পূর্ণ পরিচয় না থাকায় লাশ দাবি করা যায়নি। সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল হামিদ জানান, নিহত দু’জন সুখপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তাদের চেনেন।
সীমান্তে রেড অ্যালার্টঃ বিএসএফ’র শক্তিবৃদ্ধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রঘুনাথপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিবর্ষণে দুই বিডিআর সদস্য নিহত হওয়ার পর গতকাল সীমান্ত পরিস্থিতি ছিল থমথমে। পুরো সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। বিডিআর’র শক্তিবৃদ্ধি ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনো আতঙ্কাবস্থা বিরাজ করছে।
বিডিআর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর দুই পক্ষে নতুন করে কোনো গুলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। সীমান্তের ৮২ কিলোমিটারজুড়ে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। এতে বিডিআর অতিরিক্ত শক্তিবৃদ্ধি এবং সীমান্তে বাড়তি নজরদারি শুরু করে। বিএসএফও একই সময় তাদের সীমান্তে ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ শক্তি বৃদ্ধি করেছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে রঘুনাথপুর সীমান্ত এলাকার সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ওই এলাকার দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান বজলার রশিদ মনু। তিনি জানান, দেড় কিলোমিটার অভ্যন্তরে এসে বিডিআর জওয়ানদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। পদ্মায় মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবী মানুষেরা গতকাল মাছ ধরতে যাননি আতঙ্কে। নতুন কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতাসহ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএসএফ ভরা নদীতে যাতে পুনরায় হামলা চালাতে না পারে সে কারণে চার শতাধিক যন্ত্রচালিত নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান আবদুস সামাদ জানান, সীমান্তে রেড অ্যালার্ট থাকায় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ ঘটনার নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন। বিশিষ্ট রাজনীতিক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ জানান, ভারত বর্তমান সরকারের দুর্বলতার কারণে এমন ঘটনার সুযোগ নিয়েছে। ট্রানজিট প্রশ্নে চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শিবগঞ্জ এলাকার সাবেক এমপি অধ্যাপক সাজাহান মিয়া দেশের অভ্যন্তরে এসে গুলিবর্ষণের এ ঘটনাকে বর্বর দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম রেজা জানান, এটি জঘন্য কাজ এবং ছোট শক্তির ওপর বড় শক্তির দাপট। সাবেক এমপি লতিফুর রহমান এটিকে প্রতিবেশী ও বন্ধুসুলভ আচরণের পরিপন্থী কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চু জানান, এটি অন্যায় কাজ। বিনা উসকানিতে বাংলার মাটিতে বিডিআর জওয়ান হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
এ দিকে বিডিআর’র সাথে বিএসএফ’র অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিডিআরকে গুলিবর্ষণের কথা বিএসএফ অস্বীকার করলেও আটককৃত ভারতীয় নাগরিক তাজেমুল (২৫) সাংবাদিকদের সামনে বিএসএফ কর্তৃক গুলিবর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেন। ভারতের মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর থানার চালাকপাড়া গ্রামের নাগরিক তাজেমুল মহিষ পাচার করার সময় বিএসএফ কর্তৃক আটক হয়েছিল। বিএসএফ তাকে টহল বোটে নিয়ে পদ্মা অতিক্রম করার সময় বিডিআর’র মুখোমুখি হয়। টহলবোট থেকে গুলিবর্ষণ করে স্পিডবোটযোগে তাজেমুলকে ফেলেই পালিয়ে যায় বিএসএফ। বিডিআর পরে তাজেমুল, বিএসএফ’র ফেলে যাওয়া একটি ওয়াকিটকি ও সেনাক্যাপসহ টহলবোটটি আটক করে। গতকাল তাজেমুলকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বিডিআর’র নিহত হওয়ার ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার সীমান্তে সতর্কাবস্থাঃ কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বিডিআর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কুলাউড়াসহ মৌলভীবাজার জেলার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিডিআর সর্বোচ্চ সর্তকাবস্থায় রয়েছে। অপর দিকে আজ রোববার সকাল ৯টায় প্রধান উপদেষ্টা মৌলভীবাজারের

৮ বছরে বিএসএফ’র হাতে ৭০৪ বাংলাদেশী নিহতঃ বেসরকারি সংগঠন অধিকার জানিয়েছে, জানুয়ারি ২০০০ থেকে ১৮ জুলাই ২০০৮ পর্যন্ত ৭০৪ জন বাংলাদেশীকে বিএসএফ হত্যা করেছে। ২০০৮ সালে বিএসএফ কতৃক ৩৬ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। অধিকার বিএসএফ কতৃক দু’জন বিডিআর সদস্যকে হত্যার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, সীমান্তে বিএসএফ’র এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।
অধিকার উল্লেখ করেছে, ভারত সীমান্ত নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গুলি করে হত্যার নীতি অবলম্বন করছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ঠিক তখন বিএসএফ কতৃক বিডিআর সদস্যদের এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। বাংলাদেশের সাথে ভারত যখন ‘সন্ত্রাসবাদ এবং অবৈধ সীমান্ত প্রবেশ কার্যক্রম মোকাবেলার কৌশল নির্ণয়ের বিষয়ে আলোচনায় আছে তখন বিএসএফ কতৃক এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ওই কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্তরায়, যা ভারত কতৃক মানুষের জীবনকে তুচ্ছ করে দেখার ইঙ্গিত বহন করে।

বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দাঃ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হাতে দুই বিডিআর সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে গায়েবানা জানাজাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএসএফ বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ করে দুই বিডিআর সদস্যকে হত্যা করে। গতকাল বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর ও সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি খন্দকার আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম পীরসাহেব চরমোনাই ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারুল হক, দেশপ্রেমিক সামাজিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, সম্মিলিত প্রাক্তন সৈনিক কল্যাণ সংস্থার নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাজী শেখ আবদুল মান্নান, স্বাধীনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল ইসলাম, জাতীয় লেখক ফোরামের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এনডিপি’র চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা ও মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, ন্যাশনাল ইয়ুথ ফেডারেশনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর সভাপতি মুফতি আবদুল আউয়াল ওয়াইসী, কারীমপুরের সাহেবজাদা মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ফয়েজী, ইসলামি পত্রিকা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ ইসমাঈল হোসাইন, জমিয়তের ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শায়েখ আবদুল মোমিন, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল মোবিন, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি কৃষক মোহাম্মদ সাদেক, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা মোঃ আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট ও মহাসচিব মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ পার্টির (বিপিপি) মহাসচিব মোঃ নোমান, কৃষক শ্রমিক পার্টির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট এম এ লতীফ মজুমদার, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা এবং মানবাধিকার সংগঠন অধিকার দুই বিডিআর সদস্যকে হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

কর্মসূচিঃ বিডিআর সদস্য হত্যার প্রতিবাদে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন আজ রোববার বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। স্বাধীনতা ফোরাম বিকেল ৫টায় রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে গায়েবানা জানাযা, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে। সভাপতিত্ব করবেন স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিএসএফ দ্রুতগামী নৌযান নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরের দেড় কিলোমিটার প্রবেশ করে বিডিআর টহল দলের ওপর গুলি করে। এতে দু’জন বিডিআর সদস্য নিহত হয়। গতকাল সকালে যশোরের চৌগাছা সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দু’জন বাংলাদেশী নিহত হয়। বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পরপরই বিএসএফ সীমান্তে এ হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.