20th Jul 2008
ইসরাইলীদের ব্যর্থতা ও হুমকি
ইসরাইলী কারাগার থেকে লেবাননের বন্দীদের মুক্তির পর লেবাননের জনগণ ইসরাইলীদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিজয় উৎসব পালন করেছে। পরাজিত ইসরাইল এর প্রতিক্রিয়ায় সামির কান্তারকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। ইসরাইলের কোনো কোনো নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে সামির কান্তারকে যদিও মুক্তি দেওয়া হয়েছে তারপরও তাকে কিন্তু ইসরাইলীরা হত্যা করার টার্গেটে রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল মনে করছেন ইসরাইল সম্প্রতি লেবাননী বন্দীদের মুক্তি দিয়ে হিযবুল্লাহ ও লেবাননী জনগণের কাছে যেভাবে পরাজিত হয়েছে,সেই অপমান সেই পরাজয়ের গ্লানী ঢাকা দেওয়ার জন্যেই কান্তারকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। আসলে বন্দী বিনিময়ের মধ্য দিয়ে হিযবুল্লাহর মোকাবেলায় ইসরাইলের ব্যর্থতা থেকে তাদের ভেতর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা একটু হালকা করার জন্যেই ইসরাইলী কর্মকর্তারা এই অবস্থান নিয়েছেন। স্বয়ং ইসরাইলী প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজও বন্দী বিনিময়ের যন্ত্রণা লাঘব করতে গিয়ে লেবাননী জনগণের উৎসব পালনের সমালোচনা করে বলেছেন,বন্দী বিনিময়ে মূলত ইসরাইলেরই পরোক্ষ বিজয় হয়েছে। লেবাননী জনগণ ও হিযবুল্লাহর বিজয়ের ফলে ইসরাইলী কর্মকর্তারা তাদের মানসিক চাপ কমানোর জন্যে নিজেদের গণমাধ্যমগুলোকে নিষেধ করেছে,তারা যেন বন্দী বিনিময়ের খবর না ছাপে। যদিও অধিকৃত ফিলিস্তিন থেকে প্রকাশিত দৈনিক ’মাআরিভ’ শীর্ষ শিরোনামে লিখেছে ‘ইসরাইল পরাজিত হয়েছে’। বিস্তারিত খবরে দৈনিকটি লিখেছে হিযবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ, যিনি ইসরাইলকে যুদ্ধে পরাজিত করেছেন, আরব বিশ্বের সবচে জনপ্রিয় নেতার শিরোপা অর্জন করার মধ্য দিয়ে আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবেন। বিশেষজ্ঞমহল মনে করছেন ইসরাইলীদের জন্যে এটা একটা তিক্ত স্বীকারোক্তি হবে যে তৃতীয় সহস্রাব্দের প্রথম দশকে হিযবুল্লাহর সাথে তাদেরকে বড়ো ধরনের একটা পরাজয় মেনে নিতে হলো। ২০০০ সালের গ্রীষ্মে দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের লজ্জাজনক পিছু হটে যাবার ঘটনা,২০০৬ সালের গ্রীষ্মে ৩৩ দিনের যুদ্ধে তাদের পরাজয় এবং চলতি বছরের গ্রীষ্মে বন্দী বিনিময়ের ঘটনা প্রভৃতি ইসলামী প্রতিরোধ,হিযবুল্লাহ এবং লেবাননী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল বিজয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এই বিজয় একদিকে যেমন ইসরাইলীদের অপরাধ ও অত্যাচারের ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে অপরদিকে সমগ্র মুসলিম জাতির জন্যে বয়ে এনেছে এক বিশাল বিজয়ের সুসংবাদ। পরাজিত শক্তি ইসরাইল তাই তাদের অতীতের সকল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার স্বার্থে যে-কোনো প্রকার হঠকারী বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ অধিকাংশ রাজনীতি বিশ্লেষকেরই ধারণা ইসরাইল তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপগুলো থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে সন্ত্রাসী উপায় বেছে নিতে পারে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.