21st Jul 2008
উন্নয়ন সহযোগীরা খাদ্য ও কৃষিখাতে অর্থ সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে
বিশ্বব্যাংক ১০ কোটি ডলার দেবে
স্টাফ রিপোর্টারঃ উন্নয়ন সহযোগীরা খাদ্য ও কৃষি খাতে সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে। খাদ্য সাহায্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে চাল ও গম মিলিয়ে পাওয়া গেছে প্রায় দু’লাখ টন। অপর দিকে কৃষিখাতেও উন্নয়ন সহযোগীরা সাহায্য আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে বিশ্বব্যাংক ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) খাদ্য নিরাপত্তা বাবদ অর্থ দেবে বলে জানিয়েছে। গতকাল রোববার পরিকল্পনা কমিশনে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নব নিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাবেল গুয়েরিরো অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলামের সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান। অর্থ-উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতকালেই বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি বিষয়ে আলোচনা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা হয়। তিনি বাজেট ঘাটতি একটা বড় সমস্যা বলে মনে করেন। বাজেট ঘাটতি মেটাতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বিশ্বব্যাংকের সাহায্য চেয়েছেন। তিনি পদ্মাব্রীজ নির্মাণের জন্যও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশকে ১৩ কোটি ডলার খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য ঘোষণা দিয়েছে। এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ২০ কোটি ডলার খাদ্য সহায়তার জন্য চেয়েছিলেন। কিন্তু এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৩ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়। গত জুন মাসে ঢাকায় সফরে আসা এডিবির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মহাপরিচালক কুলিও সেনগা ১৩ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
উন্নয়ন সহযোগীরা মনে করছে বাংলাদেশ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। আর এটা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেলক্ষ্যে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলতেই তাদের এই সহায়তা। তবে উন্নয়ন সহযোগীরা কোন খাতে অর্থ ব্যয় করা যাবে, সেটা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলছে না। অপর দিকে সরকারের সামনে খাদ্য সংকট ক্রমেই বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। যার ফলে এই মুহূর্তে কৃষিকে সহায়তা প্রদান করা সরকারের জন্য জরুরি। সার, সেচ, মান সম্পন্ন বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব খাতে জরুরি অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারকে খাদ্য, সার-বীজ কিনতে অর্থসহায়তা দিতে রাজী নয় বা দিচ্ছেও না। বিশ্ব ব্যাংক বলেছে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন দরকার। আর তারা প্রযুক্তি উন্নয়নে অর্থ সহায়তা দিতে রাজি।
এদিকে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে খাদ্য সাহায্য এবং কৃষিখাতে অর্থ সাহায্য কমিয়ে দিয়েছে। গত অর্থবছরে চাল ও গম মিলিয়ে ২ লাখ ৫ হাজার টন খাদ্য সাহায্য পাওয়া যায়, অপর দিকে কৃষিখাতে বৈদেশিক সাহায্য আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এখাতে ৩০৩.৮১ কোটি টাকা পাওয়া গেলেও সমাপ্ত অর্থবছরে এই সাহায্য ২০০ কোটি টাকার নীচে নেমে আসে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.