21st Jul 2008

দিনাজপুরে জ্বালানিবিহীন ৩০ কিলোওয়াট পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করেছেন শাহিদ

দিনাজপুরঃ কিশোর শাহিদ হোসেনের আবিষ্কৃত বিএসডিপি’র ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্লান্টের পরীক্ষামূলক বাল্বের আলো। ইনসেটে শাহিদ হোসেনঃ নয়া দিগন্ত
 
বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় বাড়ির লাইন কেটে দেয়ার শোকে এক অদ্ভুত আবিষ্কার করে বসলেন দিনাজপুরের শাহিদ হোসেন। তার আবিষ্কারের বিষয় অত্যন্ত কম খরচে কোনো জ্বালানি ব্যবহার না করেই পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ।
দিনাজপুর শহরের পুলহাট মাঝিপাড়া এলাকার মোঃ বাবুল হোসেনের পুত্র মোঃ শাহিদ হোসেন দীর্ঘ পাঁচ বছর গবেষণা করে সফলতা পেয়েছেন তার বিএসডিপি পাওয়ার প্লান্ট অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ শাহিদ দিনাজপুর পুলহাট পাওয়ার প্লান্ট’। পরীক্ষামূলক ৩০ কিলোওয়াট প্লান্টে আউটপুট ২২ কিলোওয়াট পাওয়া গেছে। এর বার্ষিক খরচ বর্তমান বাজারদরে মাত্র ৭ হাজার টাকা। ১০ কিলোওয়াট থেকে সর্বোচ্চ ১২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত একাধিক প্লান্ট করার প্রস্তাব দিয়েছেন এই গবেষক। তার প্রতিটি প্লান্টের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা করে।
‘নয়া দিগন্ত’কে এই গবেষক জানান, ২০০৩ সাল থেকে তার গবেষণার কাজ শুরু হয়। সে সময় তার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ১২ হাজার টাকা বকেয়া পড়ার কারণে পিডিবি লাইন কেটে দেয়। সেই শোকে কম খরচে কিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সে জন্য গবেষণায় নেমে পড়েন তিনি। দিনাজপুর উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনার ফাঁকে চলে তার এই গবেষণা। গবেষণাকে সহজ করার জন্য স্কুলের ভোকেশনাল শাখায় তিনি ভর্তি হন। স্কুলের শিক্ষকরা তার গবেষণায় উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে থাকেন। গবেষণার ফাঁকে ২০০৭ সালে তিনি ভোকেশনালে এসএসসি পাস করেন। এ বছরই দিনাজপুর পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হবেন বলে জানান। ২০০৩ থেকে ২০০৭­ এই পাঁচ বছরে তিনি পেয়ে যান তার গবেষণার ফল। বিভিন্ন মিডিয়ায় তার এই গবেষণা দারুণ প্রচার পায়। বাংলাদেশ সরকারসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা তার বিদ্যুৎ প্লান্টকে মূল্যায়ন করেছে।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ নবিউল হক মোল্যা গত ৮ জুলাই সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে তার এই প্লান্টকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। তিনি জানান, তার এই প্লান্টকে বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে ৪ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাবও এসেছে। কিন্তু তিন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং কারো সাথে চুক্তিবদ্ধও হননি। দেশীয় এক কোম্পানি তাকে বলেছিল আমরা ১ কিলোওয়াট দেখেছি এখন ১০ কিলোওয়াট দেখতে চাই। আবার কেউ কেউ বলেছিল এসডিপি পাওয়ার প্লান্ট নামটি পরিবর্তন করে অন্য কোনো নাম দেবে। আর বিদেশী কোম্পানিগুলো বলছিল আমাকে বিদেশে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমার মাতৃভূমি ও আমার সেই সম্পদটিকে ছেড়ে বিদেশ যেতে চাই না এবং আমার প্লান্টের নামও বদলাতে চাই না। তিন আশা করেন আগামীতে এই প্লান্টকে আরো বেশি শক্তিতে রূপান্তর করতে পারবে। অ্যাম্পিয়ার সম্পর্কে শাহিদ জানান, গবেষণার এই পর্যায়ে এখনো সব কিছু ঠিকঠাক করে নিতে পারেননি। পর্যায়ক্রমে এমপিআর বিষয়টি জানাবেন। তিনি জানান, এ প্লান্টের স্থায়িত্ব বর্তমান প্লান্টগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। এতে কোনো রকম বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও শব্দদূষণ থাকবে না। কারণ এখানে জ্বালানি হিসেবে তেল, গ্যাস, পানি ও কয়লা এবং কোনো রকম কাঁচামাল ব্যবহৃত হবে না। বর্তমান প্লান্টটির আকার একটু বড় হলেও ভবিষ্যতে এর ড্রয়িং পরিবর্তন করা হলে প্লান্টের আকার তুলনামূলক ছোট হয়ে আসবে বলে তিনি জানান। এ প্রযুক্তি দিয়ে সর্বনিম্ন ১০ কিলোওয়াট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।  -সাদাকাত আলী খান দিনাজপুর

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.