21st Jul 2008
মাওলানা নিজামীর গ্যাটকো মামলার রিট শুনানিতে হাইকোর্ট বিব্রত
সংবাদ মাধ্যমে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মাওলানা নিজামীর গ্যাটকো মামলার রিট শুনানিতে হাইকোর্ট বিব্রত
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্প মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর গ্যাটকো মামলার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি করতে বিব্রত বোধ করেছে হাইকোর্ট। আদালত কয়েকটি সংবাদপত্রের বিব্রতকর সংবাদ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে শুনানি করতে এই অপারগতা জানান। আদালত বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাদের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালতের মর্যাদা ও বিচারকের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করায় আমাদের পক্ষে বিচার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ জন্য আমরা শুনানি গ্রহণে বিব্রতবোধ করছি। পরে দুপুর ২টার দিকে আদালত এক আদেশে বিব্রতবোধের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন। এখন প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনটির কোন বেঞ্চে শুনানি হবে তা ধার্য করবেন।
গতকাল রোববার বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মাশুক হোসেন আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে মাওলানা নিজামীর গ্যাটকো মামলার বৈধতা রিটের শুনানিতে এসব কথা বলা হয়। বিচারপতি মাশুক হোসেন আহমেদ বিব্রতবোধ করার কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন। গতকাল রোববার সকালে মাওলানা নিজামীর কৌসুলী সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক গ্যাটকো মামলার বৈধতা রিটের শুনানি করতে যান। তখন আদালত তাকে বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমাদের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালতের মর্যাদা ও বিচারকের অবস্থান যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন বিচার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এজন্য আমরা এই মামলার শুনানিতে বিব্রত বোধ করছি। এ সময় ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আদালতকে বলেন এর আগে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একই মামলায় আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তখন আদালত আবারো বিব্রতবোধের কথা জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করে। তখন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বিব্রত বোধ করার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, এই বেঞ্চ হাইকোর্টের সিনিয়র বেঞ্চ। লিখিতভাবে না জানানো হলে অপর বেঞ্চেও তা হতে পারে। পরে আদালত লিখিতভাবে আদেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে রিট আবেদনটি প্রেরণ করেন। ফলে প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনটির শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন দেশের বাইরে রয়েছে। ২৪ জুলাই তিনি দেশে ফিরবেন।
গত বৃহস্পতিবাার জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী গ্যাটকো মামলা দায়ের ও মামলার কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করেন। রিট আবেদনে তিনি স্থগিতাদেশের আবেদন করেন। রিট আবেদনে বলা হয় গ্যাটকো মামলায় দুদকের অনুমোদন যথাযথ হয়নি। এ মামলা দায়ের এবং চার্জশীট আইনের দৃষ্টিকোণ অনুমোদন নয়। মামলাটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। কেননা ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন সেই মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের ২শ’ ৫১ দিন পর এ মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে। রিট আবেদনে বলা হয় মাওলানা নিজামী নির্দোষ। তিনি সরকারের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী কাজ করেছেন।
প্রসঙ্গত গত ১৪ জুলাই গ্যাটকো মামলায় মাওলানা নিজামী হাইকোর্ট থেকে দু’মাসের অন্তর্বর্তী জামিন লাভ করেন। পরদিন তিনি পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মুক্ত হন। কিন্তু প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদপত্র মাওলানা নিজামীকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশের সমালোচনা করে এবং আদালতের এখতিয়ার প্রশ্নে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেই হাইকোর্ট শুনানিতে বিব্রত বোধ করেছেন।
গতকাল রোববার শুনানিতে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন ও ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন মিঠু, এডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, এডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ। -স্টাফ রিপোর্টার
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.