22nd Jul 2008
ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদের বেশির ভাগই ভারতে
আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্খা ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদের মধ্যে বেশির ভাগই এখন অবস্খান করছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ইন্টারপোল বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদের ১২৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামও রয়েছে। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই খুন-জখমসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই রয়েছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ইন্টারপোলের এই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রায় এক শ’ সন্ত্রাসী প্রতিবেশী দেশ ভারতে অবস্খান করছে। অনেকে সেখানে বসেই বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, ইন্টারপোলের দায়িত্ব হচ্ছে যোগাযোগ রক্ষা করা, এর বাইরে কিছু নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা ভারতে অবস্খান করছেন তাদের অন্যতম হচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার তানভিরুল ইসলাম জয়, হারেস ওরফে হারিস, মোল্লা মাসুদ, সুব্রত বাইন, জাহাঙ্গির ফেরদৌস, আব্দুল গনি, কামরুল হাসান, হাশেম, কুতুব উদ্দিন হাজারী, নবী হোসেন, শাহাদাত হোসেন, ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, জাফর আহমেদ, নাসিরুদ্দিন খান, রোজেন, গোলাম সারোয়ার, প্রশান্ত সরদার, হারুন শেখ, গোলাম রসুল সিকদার, তোফাজ্জল হোসেন সিকদার, সুমন, সুলতান সুজিত, সৈয়দ শিহাব, মাহতাব উদ্দিন, জিসান, এ কে এম এনামুল হক, কামরুজ্জামান ওরফে জামান, এ এইচ এম বিপ্লব, চান মিয়া, সেলিম মিয়া, মিন্টু, সালাহ উদ্দিন ওরফে মিন্টু, রবিন, আমিনুর রহমান, আতাউর রহমান, হাবিবুর রহমান, মতিউর, জাহিদ, নাসিরুদ্দিন ওরফে রতন, শামীম কবির, আব্দুল খালেক, শামীম আহমেদ, খোরশেদ আলম, তৌফিক আলম, ফিরোজ আলম, শহর আলী, আব্দুল আলিম, নুরুল আমিন, আনোয়ারুল আজিম আনার, মনোতোষ বসাক, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, ওমর ফারুক কচি, তুষার মাহমুদ এবং স্বপন মালাকার অন্যতম।
ইন্টারপোল বিভিন্ন সময় এসব সন্ত্রাসীর নামের তালিকা এবং কারো কারো ছবি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। কিছু সন্ত্রাসীর সম্ভাব্য অবস্খান সম্পর্কে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর বাইরেও কয়েক শ’ সন্ত্রাসী রয়েছে যারা ভারতের বিভিন্ন স্খানে অবস্খান করছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে বসেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে জয়, হারিস, শাহাদত, খোরশেদ, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, জিসান ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য পেতে বসেছে। সন্ত্রাসীরা ভারতে অবস্খান করলেও দেশে তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা রয়েছে। ভারতে অবস্খান করেই তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, ভারত চাইলেই এদের প্রায় সবাইকে গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব সন্ত্রাসীকে তারা গ্রেফতার করে না। কোনো কারণে কাউকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদেরকে জামিন দিয়ে দেয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী খন্দকার তানভিরুল ইসলাম জয়কে গ্রেফতার করা হলেও রহস্যজনক কারণে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এই জয় ও তার বাহিনীর সদস্যরা রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে তথ্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। বিগত দিনে বেশ কিছু খুনের ঘটনা ঘটেছে এই বাহিনীর হাতে। এখনো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জয় ও তার বাহিনীর নামে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। ডাকাত শহীদকেও ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু পরে শহীদ জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বেশ কিছু বাংলাদেশী সন্ত্রাসী ভারতে আশ্রয় নিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মাথায় তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনসহ আট সন্ত্রাসীকে তিন দফায় পুশব্যাকের মাধ্যমে ফেরত দেয়। কিন্তু এর বিনিময়ে তারা স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের কান্তাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের প্রধান জীবন সিংহকে দাবি করে। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গ্রেফতার হওয়া কিছু সন্ত্রাসীকে ফেরত দেয়ার কথা ছিল। ঢাকার সিআইডি’র একটি টিম কলকাতায় গিয়ে বেশ কয়েক দিন অবস্খান করে ওই সব সন্ত্রাসীর ব্যাপারে কলকাতা সিআইডিকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আসে। কিন্তু ওই দুই বিদ্রোহীকে ফেরত না পেয়ে কলকাতা সিআইডি বাংলাদেশী সন্ত্রাসীদের ফেরত দেয়ার বিষয়টি স্খগিত রেখেছে বলে ঢাকার সিআইডি’র একটি সূত্র জানায়।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.