22nd Jul 2008

লন্ডনে হাসিনা-এরশাদ বৈঠক? : আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে

ঢাকায় বসে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান যখন বলেন জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচন হলে প্রতিহত করা হবে, তখন লন্ডনে তার নেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের সঙ্গে বসে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে একমত হয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের আপত্তি থাকলেও শেখ হাসিনা মনে করেন, তার দল নির্বাচনমুখী এবং নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যোগ দেয়া উচিত। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে একটি দেশের কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও এরশাদ বৈঠকে সামনের জাতীয় নির্বাচনে তাদের দুটি দলের জোট গঠনের ব্যাপারেও একমত হয়েছেন। জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে লন্ডনে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠকের খবর হেসেই উড়িয়ে দেন। তবে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গঠনের কথা স্বীকার করেন। বৃহস্পতিবার এরশাদ লন্ডনে যান। শনিবার তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। 

সোমবার আলাপকালে এরশাদকে বেশ উৎফুল্ল মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, তার লন্ডন সফরের ঘটনা দেশে ফিরেই বলবেন। ২৫ জুলাই সকালে এরশাদ দেশে ফিরছেন। রংপুরের ‘ছাওয়াল’ এরশাদ তার এলাকার বধূ শেখ হাসিনাকে বোন বলে সম্বোধন করেন। ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় নেয়া তাঁতের শাড়ি তিনি তার বোনকে উপহার দেন।
সূত্র জানায়, উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচন, ওয়ান-ইলেভেনের চেতনা সামনে রেখে রাজনীতির পর্দার অন্তরালে নানা নাটকীয়তা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে যেমন চলছে নানা তৎপরতা, তেমনি ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচনে জনগণ যেন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করে সরকার সে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ব্যবস্থা বিধিমালাও প্রণয়ন করছে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সৎ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেয় এবং পেশিশক্তি আর কালোটাকামুক্ত নির্বাচন দেশে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, এরশাদ লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে শেখ রেহানার বাসায় খাওয়া-দাওয়া করেন। জানা যায়, হাসিনা-এরশাদ দু’দফা বৈঠক করেছেন। অন্য একজন বর্ষীয়ান প্রবাসীর বাসায়ও তাদের দাওয়াত করা হলে সেখানেও তারা একই বিষয়ে কথা বলেন।
এদিকে লন্ডনে সরকারের উপদেষ্টাসহ প্রভাবশালী মহলের সঙ্গেও একটি দেশের কূটনীতিকসহ শেখ হাসিনার বৈঠকের খবর চাউর হয়েছে। ওই বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি লন্ডন যান। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী তার দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে এ বৈঠকে কথাবার্তা হয়। নানা মহলে এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।
কারাবন্দি আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র অসুস্থ আরাফাত রহমান কোকো মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক গেলেও ভাই শামীম এস্কান্দার গ্রেফতার হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, দু’তিনদিনের মধ্যে সরকার তাকেও মুক্তি দেবে। তার ঘনিষ্ঠ দলীয় সূত্রের মতে, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে নারাজ। তিনি দেশেই থাকবেন এবং এখানেই চিকিৎসা নেবেন। আর তারেক রহমানের মুক্তির সম্ভাবনা অনেকে দেখলেও কেউ কেউ এ ব্যাপারে এখনও সন্দিহান। তারা মনে করেন, তারেক রহমানকে মুক্তি দেয়া হলে সরকার অসন্তোষের মুখে পড়বে। তখন অন্যান্য রাজবন্দি নেতা ও তাদের স্ত্রীদের মুক্তির ব্যাপারটিও সামনে চলে আসবে। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সরকারের শর্তের বেড়াজালে আটকাতেও নানা কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকার চায়, সব দল জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তার আগে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সবাই স্বাগত জানাক।
এদিকে বিএনপি এতদিন দ্বিধাবিভক্ত থাকলেও এখন ত্রিধাবিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংস্কারপন্থীদের অংশ ছাড়াও বিএনপির খালেদা জিয়া মনোনীত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ ও যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের। শনিবার মহানগর নেতাদের নিয়ে এক গ্রুপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বাসায়, আর হান্নান শাহ মহানগর কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে সরগরম করেন। তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখও খোলেন। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে নিজ গৃহে নজরবন্দি থাকলেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনমুখী করার কথা ভাবতেও পারেন। এক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতসহ তাদের মিত্ররাও জোটগতভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং উপজেলা নির্বাচনকে স্বাগত জানাতে পারে।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.