22nd Jul 2008

ড. রামবরণ যাদব নেপাল প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট

নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী ড. রামবরণ যাদব নেপাল প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার সাংবিধানিক পরিষদে সদস্যদের ভোটে তিনি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএন (মাওবাদী) দলের প্রার্থী রামরাজা প্রসাদ সিং। নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রথম দফা নির্বাচনে কোন প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। সোমবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী ড. রামবরণ যাদব ৩০৮ ভোট পেয়ে নতুন প্রজাতন্ত্র নেপালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএন (মাওবাদী) দলের প্রার্থী রামরাজা প্রসাদ সিং পেয়েছেন ২৮২ ভোট।

 

সাংবিধানিক পরিষদ সচিবালয়ের নির্বাচনী কার্যালয় সূত্রে এ কথা জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে ফলাফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচনে সাংবিধানিক পরিষদের ৫৯০ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন। নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী যাদবকে সিপিএন (ইউএমএল), মাধেসী জনঅধিকার ফোরাম, সিপিএম (এমএল), রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি, নেপাল ওয়ার্কার্স এবং প্রেজেন্ট পার্টি সিপিএন (ইউনাইটেড), রাষ্ট্রীয় জনমোর্চা, রাষ্ট্রীয় জনশক্তি পার্টি এবং বেশকিছু ক্ষুদ্র দল সমর্থন দিয়েছে।
সোমবার বিকালে সাংবিধানিক পরিষদের বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এদিকে নেপালের মাওবাদীরা আগেই হুমকি দিয়েছে, তাদের মনোনীত প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হলে তারা সরকার গঠন করবে না। মাওবাদীদের এ ধরনের হুমকিতে নয়া প্রজাতন্ত্র নেপালে রাজনৈতিক বিশৃংখলার অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। নেপালের প্রেসিডেন্ট পদটি পুরোপুরি আলংকারিক হলেও মাওবাদীদের প্রবল আপত্তির মুখে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরও দেশটির পরবর্তী রাজনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। পার্লামেন্টে বেশিরভাগ আসনের অধিকারী মাওবাদীরা বলছে, অন্য দল থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়ায় তাদের পক্ষে ভূমি সংস্কারসহ বিভিন্ন নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া বৈরী প্রেসিডেন্টের কারণে সর্বদা মন্ত্রিসভা বাতিলের আতংকে ভুগতে হবে তাদের। সোমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণের আগে মাওবাদী দলের প্রধান প্রচন্দ বলেছেন, তাদের মনোনীত প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হলে তারা সরকার গঠনে নেতৃত্ব দেবেন না। সোমবার ভোট গ্রহণের পর প্রচন্দ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট পদে আমাদের প্রার্থী পরাজিত হলে সম্ভবত আমরা সরকারে যোগ দেব না।’ নেপাল নিউজ, এএফপি।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.