22nd Jul 2008
আনোয়ার ইব্রাহিমের নিরাপত্তা নিয়ে মুসলিম বিশ্বের ৪১ বুদ্ধিজীবীর উদ্বেগ
আইজিপি’র মানহানি মামলা
মালয়েশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন আইজিপি মুসা হাসান। পুলিশ আইজি’র কৌঁসুলি কামারুল হিশাম কামারুদ্দীন গতকাল এ খবর জানিয়েছেন। এ দিকে বিভিন্ন দেশের ৪১ জন ইসলামি বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ আনোয়ার ইব্রাহিমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমকামিতা মামলার আসামি হিসেবে ১৯৯৮ সালে পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে নির্যাতনের ফলে আনোয়ারের দেহে আঘাতের চিহ্নকে দুর্ঘটনামূলক বা তার নিজেরই সৃষ্ট বলে ডাক্তারি রিপোর্টে বলা হয়েছিল। ডাক্তারকে এ ধরনের রিপোর্ট দিতে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা ও বর্তমান আইজিপি মুসা সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে আনোয়ার অভিযোগ করার পর তার বিরুদ্ধে এই মানহানি মামলা হলো।
আনোয়ার বলছেন, বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা আছে, যা নিয়ে তারা সামনে অগ্রসর হচ্ছেন। খুব শিগগিরই এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হবে, যাকে ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনাল জোট একটি হুমকি হিসেবে দেখছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই একটি নতুন সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট সমর্থন তার পেছনে আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমকামিতার অভিযোগে আনোয়ারকে ব্যস্ত ও বিপর্যস্ত রাখলে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে বিরোধী দল। সে কারণেই তার বিরুদ্ধে নতুন করে এই মামলা দেয়া হয়েছে।
এ দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪১ জন ইসলামি বুদ্ধিজীবী তার নিরাপত্তা ও সম্মানের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এক খোলা চিঠিতে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, জর্ডান, ইয়েমেন, ফ্রান্স, মিসর, জার্মানি, আলজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই বুদ্ধিজীবীরা বলেন, বর্তমান মুসলিম বিশ্বে মালয়েশিয়ার ভূমিকা দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি সবক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অর্জন প্রসংশনীয় ও শীর্ষস্থানীয়। এ রকম একটি দেশের দিকে সারাবিশ্বের বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর দৃষ্টি নিবদ্ধ আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও পুলিশি হয়রানির কারণে। ১৯৯৮ সালে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই পুলিশ হেফাজতে তাকে প্রহার করার বিষয়টি ছিল দেশটির ন্যায়বিচারের প্রতি এক বিদ্রূপ। সে সময় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যার কারণে তাকে ছয় বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে। এই অভিযোগ মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ১০ বছর আগেকার সেই তদন্ত টিমের সততা ও উদ্দেশ্য প্রশ্নাতীত নয় এবং এখনকার পুলিশ বিভাগের নেতৃত্বেও আছেন সেই সময়ের আইও মুসা হাসান (বর্তমানে আইজিপি)। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ বিচার তিনি পাবেন কি না, এ ব্যাপারে তারা উদ্বিগ্ন। -রয়টার্স/ইসলাম অনলাইন
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.