22nd Jul 2008
অপরাধ করে পরিচয় গোপন রাখতে ভারতীয় নাগরিকরা ‘বাংলাদেশী’ বলে পরিচয় দেয়
বাংলাদেশী নাগরিকরা ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে লুটপাট ও ডাকাতি করে, এমন অভিযোগ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বরাবরই শোনা যায়। এমনকি চলমান বিডিআর-বিএসএফ বৈঠকেও বিএসএফ’র এজেন্ডায় এ বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ভারতের নাগরিকরাই অপরাধ করে ধরা পড়ার পর পরিচয় গোপন রাখতে বাংলাদেশী পরিচয় দেয়।
সম্প্রতি কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য ফাঁস করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টটিতে রয়েছেঃ “সোনারপুর থানার রাধাগোবিন্দপল্লির বিষ্ণু বায়েনের বাড়িতে সোমবার গভীর রাতে ‘ডাকাতি’ করে চলে যাওয়ার সময়ে পুলিশের টহলদারি ভ্যানের মুখোমুখি পড়ে যায় ফড়িংয়ের দলবল। ভ্যানটি দেখেই দৌড়াতে শুরু করে পাঁচজন। এক সময় ঝাঁপ দেয় রাস্তার পাশের কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে। ওই পুকুর থেকেই পুলিশ ভান্টু শেখ, আলমগীর এবং বিল্লু শেখ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে। দলের পাণ্ডা ফড়িং ও আর একজন পালিয়ে যায়। ধৃতরা পুলিশকে জানায়, তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। যে বাড়িতে ডাকাতি হয়েছিল, সেই গৃহকর্ত্রী প্রীতিলতা বায়েনের বয়ানের সঙ্গে তা মিলে যাচ্ছে বলে পুলিশ এক সময় নিশ্চিত হয়, দুষ্কৃতকারীরা সীমান্তের ওপার থেকেই ডাকাতি করতে এসেছিল।
কিন্তু ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে পুলিশ বুঝতে পারে, ধৃতদের আসল নাম যথাক্রমে বিজয় দাস, গৌতম মণ্ডল এবং দীপঙ্কর সর্দার। তারা কেউই বাংলাদেশের বাসিন্দা নয়। সবাই এপার বাংলার। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, নেটিয়া ও দুর্গানগরের বাসিন্দা। ফড়িংয়েরও বাড়ি বসিরহাটে। ওরা প্রত্যেকেই দাগি অপরাধী। তাদের সবার বিরুদ্ধে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় অন্তত ৫০টিরও বেশি ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশকে বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যেই ধৃত ডাকাতরা নিজেদের বাংলাদেশী বলে পরিচয় দিয়েছে।
এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, “বাংলাদেশী ডাকাতরা সাধারণত জোর খাটায় না। যে বাড়িতে তারা ডাকাতি করে যায়, সেই পরিবারের কাউকে ‘বাবা’, কাউকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে। যেহেতু ডাকাতির সময়ে গুলী চলে না, ফলে কোনও চিৎকার বা আর্তনাদ শোনা যায় না। তাই আশপাশের কেউ কিছু জানতে পারে না। ডাকাতি করে সীমান্তের ওপারে চলে যায় দুষ্কৃতকারীরা। এপারের পুলিশ হাত কামড়ায়।”
তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশের কাছে ফড়িং আর তার দলটি অতি পরিচিত মুখ। তাই ডাকাতির জন্য নতুন কৌশল নিয়েছিল তারা। চলে এসেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে মাস তিনেক আগে ‘ফড়িং’ ক্যানিং থানার ১ নম্বর দিঘীরপাড় এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। নিজেদের নামও বদলিয়ে ফেলেছিল। ক্যানিংয়ের ওই বাড়ির বাড়িওয়ালার কাছে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে নাম ভাঁড়িয়ে ভাড়া নিয়েছিল ‘ফড়িং’। রাতের ট্রেনে দক্ষিণ শহরতলীর এলাকার কোনও একটি স্টেশনে নামতো। তারপর আগে জোগাড় করা খবর অনুযায়ী ডাকাতি করতো। পুলিশ ভাবতো, ওরা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।” -সংগ্রাম রিপোর্ট।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.