23rd Jul 2008
লন্ডনে ষড়যন্ত্র চলছে, হাসিনার সাথে বৈঠকে ছিলেন প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিকঃ চারদল
খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে চারদলীয় ঐক্যজোট গতকাল রাজধানীতে এক সমাবেশের আয়োজন করে; ইনসেটে নেতৃবৃন্দঃ নয়া দিগন্ত
চারদলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। নেতারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবে তারা ছাড়া কেউ এ সরকারের বৈধতা দিতে পারবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। জনগণের ভাষা বুঝে দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ নেতাদের মুক্তি, তারেক রহমানকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবিতে দেশব্যাপী পালিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।
সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, সংবিধান উপেক্ষা করে ক্ষমতা দখলকারী এ সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে টিকে আছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা তাদের নেই। তিনি বলেন, সুষ্ঠু পন্থায় বিদায় না নিলে জনগণই তাদের বিদায় করে দেবে। এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জরুরি অবস্থায় নির্বাচন দিয়ে যাদের সংসদে আনতে চান, তাদের তালিকা প্রকাশ করুন। তিনি বলেন, সরকার তাদের ক্ষমতার এমন অংশীদার খুঁজছে, যারা জরুরি অবস্থার মধ্যে উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচন করবে। তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, আপনারা উপজেলা নির্বাচনের বিপক্ষে যে অবস্থান নিয়েছেন এ ব্যাপারে দয়া করে কথা রাখবেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ষড়যন্ত্রের ঘনঘটা চলছে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই ১/১১-এর ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। এখন লন্ডনে ষড়যন্ত্র চলছে। লন্ডনে শেখ হাসিনার সাথে শুধু এরশাদেরই বৈঠক হয়নি, এতে আরো ছিলেন প্রতিবেশী দেশের একজন ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক। ওই কূটনীতিকই বৈঠকটির আয়োজক ছিলেন।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের সময় এখনো হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন কেন এখনো জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার সময় হয়নি। জরুরি অবস্থা বহাল রেখে নির্বাচন করে কাদের সংসদে বসাতে চান? কাদের কাছে আপনারা বৈধতা চাচ্ছেন? বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে এদিক-ওদিক থেকে যে বৈধতা চাচ্ছেন এটা আপনাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। তিনি বলেন, জনগণের সঠিক ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা না দিলে আপনারা বৈধতা পাবেন না। বৈধতা পেতে হলে অথবা যদি কেউ দিতে পারে বা দেয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়াই তা দিতে পারেন। কারণ বেগম জিয়া স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক। এর বাইরে আপনারা যেভাবে যাদের কাছ থেকে বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন তা সম্ভব হবে না।
বিলম্ব না করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তারেককে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠান। কোনো দর কষাকষি করে লাভ হবে না।
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের ভাষা বোঝা আপনাদের জন্য কঠিন। অথবা যারা পেছন থেকে চালাচ্ছে তারা আপনাদের জনগণের ভাষা বুঝতে দেয় না। জনগণের মাঝে বিস্ফোরণোন্মুখ অবস্থা বিরাজ করছে। এ থেকে যদি বিস্ফোরণ ঘটে তা হলে আপনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, বিজেপি মহাসচিব শামিম আল মামুন, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী আমীর রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংবিধান লঙ্ঘন করছে। তারা নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তিনি সিইসি’র উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, বির্তকিত হওয়ার পরও কেন পদত্যাগ করছেন না? বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই সিইসি পদত্যাগ না করে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিইসি’র এই ভূমিকাকে নির্লজ্জ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, তারা নতুন নির্বাচনী অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা ইচ্ছেমতো নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবেন।
এটাকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে খোন্দকার দেলোয়ার সরকার ও ইসি’র উদ্দেশে বলেন, এর মাধ্যমে আপনারা পার পাবেন না। তিনি বলেন, আমরা বেগম জিয়া, তারেক রহমানসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি করে আসছি। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। তাদের কানে পানি ঢুকিয়ে দেয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে আমাদের বাধ্য করা হবে কি না জানি না। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসে এ সরবরাহ দুর্নীতি আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ সরকারের উদ্দেশে বলেন, চারদলের গঠনমূলক আন্দোলনের মর্যাদা দিন। বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিন। কোকোকে মুক্তি দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ তারেককে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠাতে বিলম্ব করায় জনগণের কাছে আপনারা ঘৃণিত হচ্ছেন।
তিনি রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ১১ জানুয়ারির পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, সেখানে বেগম খালেদা জিয়া সংবিধান অনুসারে সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট এড়ানোর লক্ষ্যে কয়েকবার নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি বলেন, যারা বলেন দুই নেত্রীর হটকারিতার কারণে ১১ জানুয়ারির সৃষ্টি হয়েছে, তারা বেগম জিয়ার প্রতি অবিচার করেন।
জামায়াত সেক্রেটারি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। তিনি বলেন, সরকার বলছে জনগণ তাদের কাছে উপজেলা নির্বাচন চায়। কিন্তু জনগণ আসলে এটা চায় না। জনগণ চায় দ্রব্যমূল্য কমাতে, জ্বালানি তেলের দাম কমাতে, নিজেদের সরকার পেতে, সবার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে।
তিনি বলেন, আমাদের একজন উপদেষ্টা লন্ডনে শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক করছেন। আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচন নিয়ে হুমকি দেয়ার প্রেক্ষাপটে এটা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ হুমকি দিলেই তাদের কাছে উপদেষ্টাদের ছুটে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়।
সরকার রাজনৈতিক দল ভাঙা, দলের মধ্যে উপদল সৃষ্টির মতো অনৈতিক কাজে জড়িত রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈতিকতা ভালো না থাকলে দুর্নীতিবিরোধী ভূমিকায় সফল হওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, দল ভাঙার পেছনে যে অর্থ ব্যয় করছেন সে টাকা আসে কোথা থেকে। আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, অবিলম্বে বেগম জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।
আবদুল কাদের বলেন, সরকারের একমাত্র সাফল্য অসংখ্য লোককে গ্রেফতার করে কারাগারগুলো ভরে ফেলা। কারাগারে একজনের জায়গায় ১০ জন মানুষ রাখা হয়েছে। -নিজস্ব প্রতিবেদক।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.