23rd Jul 2008
চট্টগ্রামের খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে
সংস্কারের অভাবে চট্টগ্রামের খেলার মাঠগুলো ক্রমান্বয়ে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে ফুটবল দলগুলো অনুশীলনের জন্য বিকল্প মাঠের সন্ধানে নামছে। বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ। কিন্তু সংস্কারবিহীন অবস্থায় থাকতে থাকতে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে মাঠগুলো। মাঠের অভাবে চট্টগ্রাম ফুটবল লীগে অংশগ্রহণকারী ফুটবল দলগুলো পালাক্রমে চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সকাল-বিকালে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ড়্গতি হচ্ছে স্টেডিয়াম মাঠের। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, চট্টগ্রাম শহরের প্রায় খেলার মাঠগুলো ভূমি দস্যুদের দখলে চলে গেছে। নগরীতে এক সময় ছিল দিগন্ত জুড়ে খেলার মাঠ। বর্তমানে এই সকল মাঠে গড়ে উঠেছে মার্কেট নতুবা অট্টালিকা। আবার কিছু কিছু মাঠে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুদের চিত্র বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক। ফলে পাড়া-মহলস্নার ছেলেরা হয়েছে খেলাধুলা বঞ্চিত। মাঠগুলোতে নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করে গ্রাস করার কারণে বিভিন্ন খেলাধুলার টুর্নামেন্ট আয়োজন এখন বিলুপ্ত প্রায়। বর্তমানে যে মাঠগুলো রয়েছে, অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য মাঠগুলোকে রড়্গা করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ভূমি দস্যুদের বিরম্নদ্ধে রম্নখে দাঁড়াতে না পারলে প্রতিশ্রম্নতিশীল খেলোয়াড় সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে পড়বে। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন থেকে এক সময় অসংখ্য ফুটবলার ও ক্রিকেটার বেরিয়ে আসতো। খেলোয়াড়রা চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও সাফল্য দেখাতো। সে সোনালী দিন বর্তমানে আর নেই। ক্রিকেট চর্চা অনেকটা দেখা গেলেও ফুটবল চর্চা একেবারে নেই বললেই চলে। এ ধরণের পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা যায় মাঠ সমস্যাকে। মাঠ স্বল্পতার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে নগরীর এলাকাভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ফলে খেলোয়াড় সংকটে ভুগছে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গন। চট্টগ্রামের ফুটবল ক্লাবগুলোতে হাহাকার অবস্থা। খেলোয়াড় সংকটের কারণে দল গড়া সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম ফুটবল খেলোয়াড়দের দল-বদল পর্বের সময়সূচি কয়েক দফায় বৃদ্ধি করা হয়। শুধুমাত্র দলগুলোর দল গঠনে ব্যর্থতার কারণে। ক্রীড়া সংগঠকদের দাবি চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত ফুটবলার নেই। দল গঠনের জন্য খেলোয়াড় সংগ্রহ করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলা থেকে। এই কাজ করতে সংগঠকদের বেগ পেতে হচ্ছে খুব। ক্রীড়া সংগঠকদের দাবি ফুটবল কিংবা ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত মাঠ। চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের বেশ কয়েকটি ক্লাবকে খেলোয়াড় সৃষ্টির কারখানা বলা হতো। জুনিয়র ক্লাবগুলো সাংবছর অনুশীলন করে অগ্রজ দলগুলোকে খেলোয়াড় জোগান দিয়ে সমৃদ্ধ করতো জেলার ক্রীড়াঙ্গনকে। বর্তমানে সে ধরণের সুযোগ ক্লাবগুলো পাচ্ছে না শুধুমাত্র মাঠ স্বল্পতার কারণে।
চট্টগ্রাম নগরীর খেলাধুলা আয়োজনের সূতিকাগার এমএ আজিজ স্টেডিয়াম। তৎসংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম এক সময় ছিল খেলাধুলার জমজমাট। কাজীর দেউরী, আসকার দিঘীপাড়, লাভলেইন, দামপাড়া, জামালখান ও এনায়েত বাজার এলাকার শিশু কিশোরদের জন্য ছিল ক্রীড়া অনুশীলনের তীর্থস্থান। পাড়ার শিশু-কিশোররা দল বেঁধে নেমে পড়তো বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলায়। পথচারীরা এমনকি, ক্রীড়া সংগঠকরা উপভোগ করতো শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া শৈলীর নানা কৌশল, দেশের বরেণ্য ফুটবলার আশীষ ভদ্র, ফুটবল গুরম্ন ইকবাল খান, সাবেক তারকা ফুটবলার এজহারম্নল হক টিপু, ক্রিকেট তারকা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, নুরম্নল আবেদিন নোবেল, জাহেদ রাজ্জাক মাসুম, আকরাম খান প্রমুখ খেলোয়াড়। আউটার স্টেডিয়ামে ছোট বেলায় খেলতে খেলতে স্ব-স্ব ড়্গেত্রে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
ক্রিকেট কিংবা ফুটবল অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আউটার স্টেডিয়াম ছিল উপযুক্ত স্থান। এই মাঠে বিজয় দিবস ক্রিকেট, স্টার যুব ক্রিকেট ও দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল আয়োজন করা হতো নিয়মিত। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে খেলাধুলার পাঠস্থান চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে। ট্রাক পার্কিং, কার ড্রাইভিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নানা ধরণের মেলার আয়োজনে মাঠের অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আবর্জনার স্তূপ ও মলমূত্রের গন্ধে মাঠে নামা একেবারে অসহনীয়। আউটার স্টেডিয়াম বর্তমানে সম্পূর্ণ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আউটার স্টেডিয়ামকে দেখার কেউ নেই। কোন সংস্থার পড়্গ থেকে সংস্কার কেরার জন্যেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা অতীব জরম্নরি। এখানে শেষ হয় নগরীর আরেক জনবহুল এলাকা কদমতলী, ধনিয়ালাপাড়া, দেওয়ানহাট, সিআরবি, টাইগার পাসের সন্নিকটে রয়েছে রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠ। এই মাঠে রয়েছে একই সাথে একাধিক ক্লাবের অনুশীলনের সুযোগ, তাছাড়া এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযুক্ত স্থান। ফুটবল কিংবা ক্রিকেটে কোন দলই এখন নামে না অনুশীলনে। এক সময় রেলওয়ের এই মাঠে নানা ধরণের খেলার আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠতো ক্রীড়াঙ্গন। রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠটিতে শীত মৌসুমে আয়োজন হয় বিভিন্ন সংস্থার বাণিজ্য মেলা। খেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে খোঁড়াখুড়ির কারণে এ মাঠে কোন দল অনুশীলনে নামতে পারে না। খোদ রেলওয়ে ফুটবল দলও বিকল্প মাঠের সন্ধানে নামছে। মেলার আয়োজকদের পড়্গ থেকে মাঠ ভাড়া বাবদ রেলওয়ে কর্তৃপড়্গ বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া সত্ত্বেও মাঠের কোন সংস্কারের ব্যবস্থা নেই। ফলে অযত্নে অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে কালের সাড়্গী চট্টগ্রাম রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড।
চট্টগ্রাম শহরের পুরনো এলাকা চকবাজার, দেবপাহাড় ও চন্দনপুরা সংলগ্ন প্যারেড ময়দান খ্যাত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের মাঠটি ছিল খেলাধুলার জন্য আরেক তীর্থস্থান। বিশাল পরিসরের এ মাঠে একইসাথে কয়েকটি ক্লাবের অনুশীলন চলতো। বর্তমানে প্যারেড ময়দানে সে ধরণের দৃশ্য সুদূর অতীত স্মৃতি।
আগ্রাবাদ এলাকার জাম্বুরী ময়দানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। মাঠের কিছু অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছে শিশু পার্ক। অবশিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ খেলার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নগরীর হালিশহর এলাকায় চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবের রয়েছে নিজস্ব খেলার মাঠ। এখানে আবাহনী ক্লাবের অনুশীলন করার কথা। কিন্তু এই মাঠে পানি সরানোর কোন ব্যবস্থা নেই বিধান আবাহনীর অনুশীলন চলছে অন্যত্রে। -জাকির হোসেন লুলু, চট্টগ্রাম অফিস ।।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.