23rd Jul 2008

বাংলাদেশী শ্রমিকের ওপর থেকে বাহরাইনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

সুইডেনে এশীয় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে
 
বাহরাইন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশী শ্রমিকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। গত সোমবার বাহরাইন সরকারের সাথে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে শর্ত দেয়া হয়েছে, ‘এখন থেকে কোনো বাংলাদেশী অপরাধের অভিযোগে বাহরাইন থেকে বহিষ্কৃত হলে তাকে আর বাহরাইনে ঢুকতে দেয়া হবে না।
এ দিকে ইউরোপের দেশ সুইডেনে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে বাংলাদেশের সুইডিশ দূতাবাসের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মোঃ ইব্রাহিমের সাথে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘নয়া দিগন্ত’কে জানান, বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনার জের ধরে বাংলাদেশী শ্রমিকের ওপর বাহরাইন সরকার যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেটি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সে অনুযায়ী সোমবার বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (পাসপোর্ট রেসিডেন্স অ্যান্ড ন্যাশনালিটি) কর্মকর্তা ইউসুফ ঘাতানের সাথে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোঃ শফিউল ইসলামের বৈঠক হয়েছে। দুইপক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনার পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে বৈঠকে তারা তিনটি শর্ত দিয়ে বলেছেন, বাহরাইনে আসার পর যেসব বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে। তারা যাতে আবার বাহরাইনে আসতে না পারে সেজন্য প্রত্যেকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইমিগ্রেশনে সংরক্ষিত থাকবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পেলেও আমরা তাদের চিঠিটি হাতে পাইনি। তবে আজ-কালের মধ্যে সেটি পেয়ে যাব। এ ব্যাপারে গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মতিন চৌধুরী ‘নয়া দিগন্ত’কে বলেন, বাহরাইনে যে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল সেটি কেটে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে বাহরাইনে এক বাংলাদেশী শ্রমিকের হাতে বাহরাইনের এক নাগরিক খুন হন। এ ঘটনার জের ধরে বাহরাইন সরকার বাংলাদেশী শ্রমিক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। শুধু তাই নয়, বাহরাইনে অবস্থানকারী পুরনো শ্রমিকদেরও সরকার দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়। এ ঘোষণায় বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িযে পড়ে। পরে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জের ধরে সরকারের এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্বব্যাপী মিডিয়ায় বাহরাইন সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপরই বাহরাইন সরকার তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে।
এ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখন ইউরোপমুখী হচ্ছে। ইতোমধ্যে পূর্ব ইউরোপের দেশ রুমানিয়ায় শ্রমিক রফতানি শুরু হয়েছে। তবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন ধরা পড়ে দেশে ফিরে এসেছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ফিরে আসা শ্রমিকদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক রোববার সকালে রুমানিয়া থেকে ছয় শ্রমিক দেশে ফিরে আসার পরই জিয়া বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন। ওই দিন বিকেলে তাদের মতিঝিল থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিনের নির্দেশ দেন। গ্রেফতার প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ‘নয়া দিগন্ত’কে বলেন, রুমানিয়ার বাজার ধরে রাখা এবং শ্রমিকরা যাতে পালিয়ে অন্য কোনো দেশে আশ্রয় অথবা দেশে ফিরে না আসে সে জন্য গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সরকার স্থায়ীভাবে এ ব্যাপারে আইন করার চিন্তা-ভাবনা করছে। অপর দিকে বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, সুইডেনের ইমিগ্রেশন আইন পাল্টানো হচ্ছে। আগামী অক্টোবরে তাদের পার্লামেন্টে এই সংশোধন বিল পাস হচ্ছে। জানা গেছে, বর্তমান আইনে সুইডেন শুধু ইউরোপভুক্ত দেশগুলো থেকেই শ্রমিক নিতে পারত। নতুন এই আইন পাস হলে তারা এশিয়া থেকেও শ্রমিক নিতে পারবে। এই আইন পাস হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক সুইডেনে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম না বলার শর্তে বলেন, যদি আইনটি পাস হয় তাহলে এশিয়া থেকে বাংলাদেশী শ্রমিক আগে যাবে। তা ছাড়া ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়েও সুইডেনের মতো ইমিগ্রেশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। -মনির হোসেন।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.