23rd Jul 2008

ভারতে আস্থা ভোটে মনমোহন সরকার জয়ী : রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে

ভারতের মনমোহন সিং-র সরকার আস্থা ভোটে জয় লাভ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু চুক্তি প্রশ্নে বাম দলগুলো সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে সংসদে আস্থা ভোট অনিবার্য হয়ে পড়ে। বামপন্থী দলগুলো বলছে, ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি ভারতকে মার্কিন ক্রীড়নকে পরিণত করবে। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় আস্থা ভোটে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেয়েছে ২৭৫ ভোট। অন্যদিকে, বিপক্ষে পড়েছে ২৫৬ ভোট। ১০ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। জয়ের জন্য ইউপিএর প্রয়োজন ছিল ২৭২ ভোট।
আস্থাভোটে জয়ী হয়ে আগাম নির্বাচনের হাত থেকে রক্ষা পেল ইউপিএ জোট। বিজেপির নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি বলেছেন, ইউপিএ সংখ্যানুপাতে বিজয় পেলেও নৈতিক বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

 

বিরোধী জোটের কোন কোন সংসদ তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আস্থা ভোটে বিজয়ী হওয়ায় মনমোহন সিং সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত হতে এখনও কিছুটা পথ বাকি রয়েছে এবং আস্থা ভোটের পরও দেশটিতে এ নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে।

ঘুষ দেয়ার অভিযোগ :

পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য সরকার সাংসদদের ঘুষ দিয়েছে বলে বিজেপি অভিযোগ করেছে।
অশোক অর্গল নামে বিজেপির একজন সাংসদ লোকসভার মাঝখানে চলে এসে মুদ্রাভর্তি ব্যাগ দেখিয়ে চিৎকার করে বলেন, এখানে তিন কোটি রুপি রয়েছে। ভোটদানে বিরত থাকার জন্য সমাজবাদী পার্টির একজন নেতা তাঁকে এই অর্থ দিয়েছেন। বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি অভিযোগ করেন, তার দলের পার্লামেন্ট সদস্যকে পক্ষে ভোট দেয়ার কিংবা অনুপস্খিতির বদলে ৯ কোটি টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব পাওয়ার পর মধ্যপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত বিজেপি পার্লামেন্ট সদস্য অশোক অর্গল দলের আরো দু’জন পার্লামেন্ট সদস্য মহাবীর ভাগোরা এবং ফগ্গন সিং পুলেস্তেকে সাথে নেন। সরকার সমর্থিত সমাজবাদী পার্টির এক পার্লামেন্ট সদস্যের পক্ষ থেকে তাদের ১ কোটি টাকা দেয়া হয় এবং আরো ৮ কোটি টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করা হয়।
বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং সাংবাদিকদের বলেন, তিন-চার দিন ধরে আমাদের দলীয় সাংসদদের টাকা নেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, হয় সরকারের পক্ষে ভোট দিতে অথবা ভোটদানে বিরত থাকতে। এসব কেলেঙ্কারির ঘটনা আমাদের পার্লামেন্টের মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করেছে। বিজেপির সাংসদরা পরে ঘুষের এক কোটি টাকা টেবিলে ফেলে রেখে যান। স্পিকারের দপ্তর ঐ অর্থ দিল্লী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ব্যাপারে আজ একটি মামলা দায়ের করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের পর জটিলতা :

পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভাষণের পর প্রথম ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হয়। এতে দেখা যায়, সরকারের আস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ২৫৩ জন পার্লামেন্ট সদস্য, বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩২ আর অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে দু’জন পার্লামেন্ট সদস্যকে। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রদত্ত ভোটে সরকার পক্ষ ২১টি ভোট বেশি পেয়েছে। কিন্তু প্রায় ৫১ জন পার্লামেন্ট সদস্য অনভ্যাসের ফলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে নিজের ভোট দিতে পারেননি। অনভ্যাসের ফলে ৫৪ জন ঠিক সময়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মাধ্যমের বোতাম টিপতে পারেননি। তাই স্পিকার সিদ্ধান্ত নেন, কাগজের ভোটপত্র বা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেয়া হবে। তাই পরে কাগজের ভোটপত্র বিলি করা হয়।#

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.