24th Jul 2008
জকিগঞ্জে ৪ হাজার একর জমি ভারতের দখলে
<<< কুশিয়ারার ভাঙনে বাংলাদেশের ভূমি চলে যাচ্ছে ভারতের দখলেঃ নয়া দিগন্ত
সেনাপতির চক সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের নাম। এখানে ছিল উর্বর আবাদি জমি। ছিল একটি স্কুল, একটি মাদ্রাসাসহ বিরাট হাটবাজার। কিন্তু কুশিয়ারার ভাঙনে সব চলে গেছে। এসব এখন শুধুই স্মৃতি। বাংলাদেশের মানুষ বসে বসে স্মৃতি রোমন্থন করলেও ওপারে ভারতের সবই ঠিক আছে। জকিগঞ্জের সেনাপতির চকের গ্রামের ওপারে ভারতের জোবাইননগর। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় কুশিয়ারার পাড় ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে শক্ত বেড়িবাঁধ, কংক্রিটের রাস্তা ও কাঁটাতারের বেড়া। এসব অবকাঠামোকে স্থায়ী করতে বিএসএফ’র সহায়তায় ফেলা হচ্ছে পাথরের পর পাথর। এতে সেনাপতির চকের মতো জকিগঞ্জের আরো অনেক গ্রামের আবাদি জমি, বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ নদীভাঙন ঠেকাতে কাজে নামলে বিএসএফ তাড়া করে, গুলি ছোড়ে। আর এভাবেই স্বাধীনতার পর থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারার ভাঙনে ৪ হাজার একর জমি হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সিলেটের জকিগঞ্জে ১৮টি পয়েন্টে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, এবারো সীমান্ত নদী কুশিয়ারার ভাঙনে একর পর এক জমি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। জকিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল খালেক তাপাদার কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বুক চাপড়িয়ে জানালেন তার দুঃখের কথা। নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে এসে জানান, এবারে তার কয়েক বিঘা আবাদি জমি কুশিয়ারার ভাঙনে চলে গেছে। প্রবীণ এই সাংবাদিক জানান, সেনাপতির চকে এ পর্যন্ত ৫০ একর জমি নদীর ভাঙনে চলে গেছে। তিনি জানান, এখানে মাদ্রাসা, হাটবাজার, পুরনো থানা সবই নদীতে বিলীন হয়েছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, কুশিয়ারার ভাঙনে তাদের বেঁড়িবাধ আগামী বছর জকিগঞ্জকে রক্ষা করতে পারবে না। তবে গ্রামবাসী জানান, তারা নিজ উদ্যোগে মাটির বস্তা ফেলতে গেলে সীমান্তের ওপার থেকে ভারত হুঙ্কার দেয়, থামিয়ে দেয় ভাঙন ঠেকাতে বাংলাদেশের উদ্যোগে।
একই অবস্থা জকিগঞ্জের রাড়াই গ্রামের। এখানে স্বাধীনতার পর ২০ একর জমি কুশিয়ারার ভাঙনে চলে গেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারার ভাঙনে জকিগঞ্জের অন্য গ্রামগুলোর মধ্যে মানিকপুরে ৪০ একর আবাদি জমি চলে গেছে কুশিয়ারার ভাঙনে। এখানে বিডিআর ক্যাম্প, বিওপিসহ ঘরবাড়ি এখন শুধুই স্মৃতি। একইভাবে জকিগঞ্জের অমলসিদে ৪০০ একর, বকতিপুরে ৮০ একর, বাকরশালে ৮০ একর, সরিষাকুড়ির ২০ একর, হায়দরবন্দের ও ভুঁইয়ামাড়ার ৫০০ একর, লোহার মহলের ২০ একর, ঘাগলা ঝুড়ির ২০ একর, সুপড়াকান্দির ৪০ একর, পিয়াইপুরের ৪০ একর, পূর্ব জামদহরের ৪০ একর, লাফাকোনা ও মাজের গ্রামের ৩০ একর, কোনাগ্রামের ২০ একর, লক্ষ্মীবাজারের ১০০ একর, বড় চাউলিয়ায় ৫০ একর আবাদি জমি, ঘরবাড়ি স্কুল-মাদ্রাসা সব নদীতে চলে গেছে গত ৩৭ বছরে। একই সাথে এখন এসব গ্রামের বিভিন্ন স্থানে কুশিয়ারার ভাঙনে বাংলাদেশের বেড়িবাঁধ বিলীন এবং কোথাও কোথাও বিপর্যয়ের মুখে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, এ বছর ব্লক বা পাথর দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ না করা হলে বেড়িবাঁধ এমনকি পুরো জকিগঞ্জ ভূখণ্ড হুমকির মুখে পড়বে, হারাবে মূল্যবান জমি। -সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ জকিগঞ্জ (সিলেট) থেকে ফিরে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.