24th Jul 2008

ধানের জমির আইলে সবজি চাষ বাড়তি আয়, বাড়তি সুবিধা

<<< ঝালকাঠিতে জমির আইলে শাকসবজি আবাদ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষকরাঃ নয়া দিগন্ত
 
সীমানা নির্ধারণে আবাদি জমির চার পাশ ঘিরে দেয়া হয় আইল দ্বারা। এ আইলের কারণে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি। অন্য দিকে এ আইলের ওপরেই শাকসবজির চাষ করে বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বোরো প্রধান এলাকা ভৈরবপাশা ও ষাটপাকিয়া ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে দু’পাশে রয়েছে বেশ ক’টি বিশাল আয়তনের বোরো ব্লক। এসব ব্লকের সবুজ ধান ক্ষেতের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য সরু রেখা। যেগুলো আইল হিসেবে পরিচিত। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জমির মালিকানা নির্ধারণ করতে উঁচু আইল দিয়ে আলাদা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের জমি। এসব আইলের বেশিরভাগই আগাছায় পরিপূর্ণ থাকলেও তার মধ্যেই বেশ কিছু আইলে চোখে পড়ে মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন শাকসবজি।
ষাটপাকিয়া বোরো ব্লকের সামনে কথা হয় ষাটপাকিয়া গ্রামের কৃষক মোঃ দেলোয়ার হোসেনের (৪০) সাথে। তিনি জানান, এই ব্লকে তার দুই বিঘা নয় কাঠা জমিতে এবার বোরোর আবাদ করেছেন। তার জমির চার দিকের আইল তিনি বেশিরভাগ কৃষকের মতো খালি রাখেননি। সেখানে তিনি চাষ করেছেন ঢেঁড়স, ডাঁটা ও পুঁইশাক। গত দুই বছর ধরে তিনি এভাবে আবাদ করে আসছেন। গত আমন মৌসুমে তার তিন বিঘা জমির আইলে তিনি আবাদ করেছিলেন বর্ষাকালীন মিষ্টি কুমড়া, পুঁই ও লালশাক। নিজের চার সদস্যের পরিবারের শাকসবজির চাহিদা পূরণ করেও তিনি বাড়তি ২ হাজার টাকা আয় করেছেন আইলে উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে।
নলছিটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ পরিচালিত আইসিএম (সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনা) ক্লাবের মাধ্যমে প্রথম আইল ফসলের ধারণা পান বলে দেলোয়ার হোসেন জানান। দেলোয়ার হোসেনের মতো ওই এলাকায় মোশাররফ হোসেন, কুদ্দুস মোল্লা ও আবদুস সালামসহ আরো বেশ ক’জন কৃষক এবার আইলের ওপরে মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, কলমি ও বরবটিসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছেন। কুদ্দুস মোল্লা জানান, আইলে ফসল ফলাতে বাড়তি কোনো সারের প্রয়োজন হয় না। মূল ধান ক্ষেতে দেয়া সারের কারণে আইলগুলোর জমি থাকে উর্বর। কেবল বীজের জন্য সামান্য কিছু খরচ করতে হয়েছে তাদের।
নলছিটি উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নলছিটিতে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৩৯০ একর। এই জমির মধ্যে যে পরিমাণ আইল রয়েছে তার আয়তন ৪৩৫ একর। এসব আইলের বেশরিভাগই পড়ে থাকে অনাবাদি অবস্থায়। বোরো ও আমন চাষের সময় এ আইলগুলো ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
নলছিটি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শরীফ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, জমির আইলে শাকসবজির আবাদ করলে একদিকে যেমন জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় অন্য দিকে কৃষকরা এর মাধ্যমে বাড়তি টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হন; মিটে তাদের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা। এ ছাড়াও আইলে লাগানো শাকসবজির রঙিন ফুলে আকৃষ্ট হয়ে উপকারী কীট পতঙ্গ সেখানে এসে আশ্রয় নেয়। এসব উপকারী পোকা জমির মূল ফসল ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে। ফলে কৃষকের কীটনাশক খরচ বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি দূষণের হাত থেকে বেঁচে যায় পরিবেশ। কেবল নলছিটি নয়, সারা দেশের অনাবাদি পড়ে থাকা আইলগুলোতে শাকসবজির আবাদ করা গেলে তা দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।

-ঝালকাঠি ও নলছিটি সংবাদদাতা।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.