24th Jul 2008

বিডিআর-বিএসএফ গোলাগুলির পর সোনামসজিদ স্থলবন্দর বন্ধ

সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফ গোলাগুলির পর বুধবার সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি ১০ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। শিবগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর এলাকার চাকপাড়া সীমান্তে বুধবার সকালে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গোলাগুলি হয় বলে বিডিআরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এক সপ্তাহ আগে শিবগঞ্জ সীমান্তে দুই বিডিআর সদস্যকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে বিএসএফ। এরপর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে চুয়াডাঙ্গার নিমতলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশী যুবক মারা গেছে। ৩৯ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের অপারেশন অফিসার মেজর সৈয়দ আবু হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকাল সোয়া ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত দু’পক্ষে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়।’

 


গোলাগুলির কারণ ও এতে হতাহতের বিষয়ে জানতে চাইলে কিছু জানাতে রাজি হননি ওই বিডিআর কর্মকর্তা। এক বিডিআর কর্মকর্তা জানান, চাকপাড়া সীমান্তে বিএসএফ সদস্যরা একজন চোরাচালানিকে ধাওয়া করতে করতে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়ে। তখন বিডিআর সদস্যরা সতর্ক করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে বিএসএফও পাল্টা গুলি চালায়।
গোলাগুলির পর চাকপাড়া সীমান্ত এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাছের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়।
আমাদের শিবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ সীমান্তে বুধবার সকালে বিডিআর-বিএসএফের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ গোলাগুলিতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গোলাগুলির ঘটনার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। সোনামসজিদের ওই সীমান্তের ওপারে চোরাকারবারিদের সঙ্গে ভারতীয় বিএসএফের গুলি বিনিময়ের সময় দুই বিএসএফ সদস্য নিহত হয়েছে বলে ওই সীমান্ত থেকে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকালের ঘটনার পর বিএসএফ তাদের এলাকায় শক্তি বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে বিডিআরও সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩৯ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, বিডিআর সকাল ৬টায় সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পেয়ে সীমান্তের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলে বিএসএফ বিডিআরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় বিডিআরও পাল্টা গুলি চালায়। তিনি আরও জানান, বুধবার ভোর ৬টায় সীমান্তের ওপারে নোম্যান্সল্যান্ড থেকে প্রায় আড়াইশ’ গজ ভারতের অভ্যন্তরে চোরাচালানিদের সঙ্গে বিএসএফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিএসএফ সদস্য নিহত ও এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়। গুলি বিনিময়ের পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বুধবার বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বাধুবার বিকাল ৫টার পর ভারত থেকে প্রায় ২৫টি ফলবাহী গাড়ি সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, বিএসএফের উস্কানিমূলক তৎপরতার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সোনামসজিদ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বিডিআরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ের ১২৫ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের উস্কানিমূলক তৎপরতা এবং মারমুখী আচরণে বাংলাদেশ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন (বিডিআর) সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং জনগণের জানমাল হেফাজতে রাখার লক্ষ্যে বিডিআর সীমান্তে রেড এলার্ট জারি করেছে। এদিকে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা থেকে গ্রামবাসীকে বিপদমুক্ত রাখতে বিডিআর তাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে ভারি অস্ত্র ও মোটরযানসহ বিএসএফ টহল দেয়ায় গ্রামবাসী আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, দামুড়হুদা উপজেলার নিমতলা সীমান্তে রোববার রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ সদস্যরা উস্কানিমূলকভাবে ১ রাউন্ড গুলিবর্ষণের দু’দিন পর আবারও দ্বিতীয় দফায় বুধবার ভোর সাড়ে ৫টায় ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়। ৩৫ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সুলতান আহম্মদ জানান, দামুড়হুদা উজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাবর আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম (৩০) বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হারানো গরু খুঁজতে নিমতলা সীমান্ত সংলগ্ন ৭৪নং মেইন ও ২নং সাব-পিলারের কাছে যায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গেদে ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর ওই সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ কারণে সাধারণ কৃষকরা তাদের সীমান্তবর্তী জমিতে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। নিহতের লাশ ফেরত চেয়ে বুধবার দুপুরে বিডিআরের পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.