24th Jul 2008
ট্রুথ কমিশনের কাজ শুরু ১০ দিনের মধ্যে
আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ট্রুথ কমিশন কাজ শুরু করবে। এর আগেই কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে। গতকাল আইন উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
৬ জুলাই ট্রুথ কমিশন হিসেবে পরিচিত স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ অধ্যাদেশ ২০০৮-এর কিছু অংশ সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। এর আগে ২৫ মে উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশটি অনুমোদন করে। পাঁচ মাসমেয়াদি সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশন হবে তিন সদস্যের। আলোচিত এ অধ্যাদেশে মোট ৪৬টি ধারা রয়েছে। অস্ত্র, মাদক, নারী ও শিশু পাচার এবং ধর্ষণ মামলার আসামিরা কমিশনের অনুকম্পা পাবে না।
সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশন গঠনে বিলম্ব হচ্ছে কেন জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কমিশনের কাজ শুরু হবে।
প্রথমে ব্যবসায়ীদের এ কমিশনের সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও পরে রাজনীতিবিদদের এর আওতায় আনা হয়। দুর্নীতির দায়ে অনধিক দুই বছর সাজাপ্রাপ্ত ছাড়া যে কেউ এ কমিশনের কাছে সত্য প্রকাশ করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফেরত দিয়ে ক্ষমার সুযোগ নিতে পারবেন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনধিক ছয় মাসের কারাদ- বা উভয় দ-ের আদেশ দিতে পারবে কমিশন।
সুপ্রিমকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কমিশনের চেয়ারম্যান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, মেজর জেনারেল বা তার ওপরের পদমর্যাদার প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সচিব বা সমমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা কমিশনের সদস্য হতে পারবেন।
কমিশনের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে মিন্টো রোডে। এরই মধ্যে ২৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা এবং একইসঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হাসান আরিফ আরো বলেন, সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেয়ায় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়Ñ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্র খালের অংশবিশেষ অকৃষি খাসজমির আওতায় ফেলে একটি স্কুল স্থাপনে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ড. আনোয়ারা বেগমের নামে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর জমির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি আমি বিস্তারিত জানি না। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো।
বরাদ্দ জমি বাতিল করা হবে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের নামে ওই জলাভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এর আগেও জমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তা বাতিল করেন।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.