24th Jul 2008
আদালত অবমাননা অধ্যাদেশ অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী : বাংলাদেশ হাইকোর্ট
বাংলাদেশে আদালত অবমাননা অধ্যাদেশকে অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী বলে রায় দিয়েছে আদালত।
আজ (বৃহস্পতিবার) বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও বিচারপতি তারিক আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই আইনকে অবৈধ বলে রায় দেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডক্টর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ আদালত অবমাননা অধ্যাদেশ ২০০৮ জারি করেন। সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করেন। এতে বলা হয়, আদালত অবমাননা অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যম সুপ্রীম কোর্টের নিজস্ব মর্যাদাকে খর্ব করা হয়েছে। তাই এই অধ্যাদেশ বাতিল করার আবেদন করেন রিট আবেদনকারি আইনজীবী । গত ২৫ মে আদালত অবমাননা অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
রিট আবেদনকারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এই আইন অনেকটা আমলা নির্ভর। তিনি বলেন, যে পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশ জারি করে আদালত অবমাননা আইন করেছেন তা সংবিধান বর্হিভূত। তিনি বলেন, দেশের যে পরিস্থিতিতে এ ধরনের অধ্যাদেশ জারি করতে হয় তেমন পরিস্থিতি ছিল না। এর আগে আদালত এই অধ্যাদেশকে কেন বাতিল করা হবে না তার কারণ জানাতে সরকারের প্রতি রুল জারি করেছিল। ঐ রুল নিষ্পত্তির ওপর শুনানী শেষে আজ আদালত অবমাননা অধ্যাদেশকে বাতিল এবং সংবিধান পরিপন্থী বলে রায় দেয়। আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের রায়ের ফলে এই আইনের কার্যকারিতা থাকবে না। তবে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করবে বলে জানা গেছে। আইনজীবীরা বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে এপর্যন্ত যতগুলো অধ্যাদেশ জারি করেছে তার সবগুলোই উচ্চ আদালতে গিয়ে অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রেসিডেন্টের অধ্যাদেশ জারিকে বার বার সংবিধান বর্হিভূত বলে রায় দিচ্ছেন আদালত। এদিকে অ্যাটর্নি সার্ভিস অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও আদালতে রিট করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি আদেশে বলা হয়েছে, জরুরী প্রয়োজন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিষয় ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনো অধ্যাদেশ জারি করতে পারবেন না। এ কারণেই ইতোমধ্যে জারি করা সকল অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদলতে একের পর এক রিট মামলা করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান পরিপন্থী বিভিন্ন আইন করতে গিয়ে সরকার চাপের মধ্যে পড়ছে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.