26th Jul 2008
কুয়ালালামপুরে অসংখ্য বাংলাদেশী শ্রমিক অনাহারে-অর্ধাহারে
মালয়েশিয়ায় আতঙ্ক ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন শত শত বাংলাদেশী শ্রমিক। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কিছু দূরে পাতাল রেলের একটি ব্রিজের নিচে এমন অনেক শ্রমিকের দেখা মিলবে। কোনো দিন এক বেলা খেয়ে আবার কোনো দিন না খেয়েই তাদের দিন কাটছে।
তাদেরই একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফোরকান। পাতাল রেলের দিকে নির্ণিমেষ তাকিয়ে আছে। দেখলেই বোঝা যায়, খাওয়া আর ঘুম নেই কয়েক দিন।
‘কত দিন হলো এসছেন?’ জানতে চাইলে বললেন, ছয় মাস। কারখানায় চাকরি দেয়ার কথা বলে পল্টনের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় এসেছেন ফোরকান। কিন্তু কাজ দেয়া হয় একটি পামবাগানে। বেতন মাত্র ৫ রিংগিত। অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় ১০০ টাকা। এখানে তিন বেলা খেতেই চলে যায় ৪ রিংগিত। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে মালয়েশিয়ায় আসা ফোরকান বুঝতেই পারছেন না কিভাবে তিনি এই টাকা উঠাবেন। পামবাগানে কাজ করতে গিয়ে তামিল শ্রমিকদের হাতে মার খেয়ে কুয়ালালামপুর থেকে অনেক দূরের এক বাগান থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন এই ব্রিজের নিচে। হাতে পাসপোর্ট নেই। পাসপোর্ট আছে মালিকের কাছে। ফলে দেশে ফিরে যাবেন সে উপায়ও নেই। হ্যাঁ, পথ একটা আছে, পুলিশের হাতে ধরা দেয়া। কিন্তু ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কী হবে? জমি বিক্রি করে এই টাকা দিয়েছেন রিক্রুটিং এজেন্সিকে।
ফোরকান মিয়ার মতো এমন অসংখ্য বাংলাদেশী শ্রমিক পাওয়া যাবে কুয়ালালামপুর, জোহুরবারু, শাহআলম ও পেনাংয়ে। ফোরকান মিয়ার একটাই আকুতি, দেশ থেকে যেন আর কেউ মালয়েশিয়া না আসে। কিন্তু উড়োজাহাজ ভরে প্রতি দিনই আসছে অসংখ্য ফোরকান মিয়া। যাদের দিন কাটছে অনাহার-অর্ধাহারে। ফোরকান মিয়ার মতো আরো অনেকে জানিয়েছেন, প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়ে তারা এ দেশে এসেছেন। কিন্তু কাগজপত্রে বলতে হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। এখানে আসার পর এজেন্টরা লাপাত্তা হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো অস্তিত্বহীন কোম্পানির নাম করেও বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে আসা হচ্ছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, কয়েক দিন আগেও ১ হাজার লোক এসেছে। যে কোম্পানির নামে এসব লোক আনা হয়েছে তার কোনো অবকাঠামো নেই। এটি শুধু একটি নিবন্ধিত কোম্পানি মাত্র। বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই, এমনকি ফোন নম্বরও ভুয়া।
হতভাগ্য এসব বাংলাদেশীকে নিয়ে এখানে রমরমা বাণিজ্য চলে। এক শ্রেণীর দালাল তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বহু টাকা আয় করছে। এরা কয়েক মাসের জন্য যেকোনো একটি কোম্পানিতে বা পামবাগানে কাজের সুযোগ করে দেয়। বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে এরা শ্রমিকের আয় থেকে টাকা কেটে নেয়। এক পর্যায়ে সীমাহীন পরিশ্রম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফোরকান মিয়ার মতো শত শত শ্রমিক চাকরি ছেড়ে দেন। এদেরই আশ্রয় হয় কোনো ব্রিজের নিচে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.