27th Jul 2008

শেখ হাসিনার সাথে বৈঠককালে বাউচার : নির্বাচিত ছাড়া কারো ভূমিকার সুযোগ নেই :

চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সে দেশের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড বাউচার। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১১টায় (বাংলাদেশে শনিবার) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে এ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
রিচার্ড বাউচারের সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে জেমস এফ মরিয়ার্টির প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে।

 


আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বিশেষ সহকারী ড. হাসান মাহমুদ গতকাল শনিবার বলেন, রিচার্ড বাউচার বলেছেন, বাংলাদেশের সরকার পরিচালনায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছাড়া অন্য কারো মুখ্য ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ নেই।
রিচার্ড বাউচার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়। এর কোনো ব্যত্যয় তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
শেখ হাসিনা দেশে শিগগির সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা বাউচারের কাছে তুলে ধরেন। সরকারের চলমান দুর্নীতি দমন অভিযান ও সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়ে ক্ষমতায় গেলে তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। সন্ত্রাস দমনে আওয়ামী লীগের দৃঢ় অবস্থানের কথাও যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীকে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
হাসান মাহমুদ জানান, বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে শিগগির সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দৃঢ় অবস্থানের কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাও প্রত্যাশা করেছেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ প্রধানের বিশেষ সহকারী বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার যদি আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় তাহলে সাধারণ নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে সন্দেহ রয়েছে তা আরো ঘনীভূত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল দায়িত্ব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। তাই দেশে অতি দ্রুত সাধারণ নির্বাচন প্রয়োজন।
আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে শেখ হাসিনা জানান। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে সমর্থন জানালেও তিনি বলেন, তবে দুর্নীতির নামে রাজনীতি দমন আওয়ামী লীগ সমর্থন করবে না। আর ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগই জাতীয় সংসদে ৩১ দফা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীকে জানান।
সন্ত্রাসীদের মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগ ও তিনি নিজে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস দমনে সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
হাসান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ এবং আগামীতেও তা অব্যাহত রাখা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ জুন শেখ হাসিনাকে আট সপ্তাহের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। এর পরদিনই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয় বলে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়। তবে বৈঠকের খবর অস্বীকার করলেও এরশাদ লন্ডন থেকে শুক্রবার দেশে ফিরে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটেই তিনি আছেন।
জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখান রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দেশে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী) সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান শুক্রবার বলেছেন, আমরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করার কথা ভাবছি। 

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.