28th Jul 2008
আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন ও সরকারি ছুটি বাতিল অবৈধ: হাইকোর্ট
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন এবং সরকারি ছুটি বাতিল করার সিদ্ধান্তকে বেআইনি এবং অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। গতকাল রবিবার বিচারপতি মোঃ আব্দুর রশিদ ও বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় প্রাদন করেন। এছাড়া শোক দিবস পালন এবং ঐদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত না রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জোট সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনকেও বাতিল করেছে হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, চারদলীয় জোট সরকার ২০০২ সালের ৩ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন ও সরকারি ছুটি পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রায় প্রদানের পর সরকার পক্ষের কৌঁসুলি সহকারি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মোঃ জাফর ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃতিকে ভিত্তি ধরে হাইকোর্ট এ রায় প্রদান করেছে।
তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে জাতীয় শোক দিবস পালন ও সরকারি ছুটি বাধ্যতামূলক হল।
অপরদিকে রিট আবেদনকারীগণের কৌঁসুলি এডভোকেট মোজাম্মেল হক বলেন, এ রায়ের ফলে জাতির জনক ও তার পরিবারের সদস্যদের রক্তের ঋণ শোধ করার সুযোগ পেলাম। এখন থেকে জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন ও সরকারি ছুটি এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কারণ, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীকালে জোট সরকার ২০০২ সালের ২২ জুলাই আওয়ামী
লীগ সরকারের গ্রহীত সিদ্ধান্তকে বাতিল ঘোষণা করে। পরে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হক, এডভোকেট মোল্লা আবু কায়সার ও এম এ মালেক ২০০৭ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। উক্ত আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টে সরকারের প্রতি রুল জারি করে। রুলে ১৫ আগস্টকে কেন জাতীয় শোক দিবস ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে না তা উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে শোক দিবস পালন ও ছুটি বাতিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া রুলের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে গতকাল এ রায় প্রদান করা হয়। রিট আবেদনকারিগণের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোজাম্মেল হক, এডভোকেট ফরিদুল আলম তালুকদার, এডভোকেট মোঃ শহিদউল্লাহ। সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মোঃ জাফর ইমাম।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে এডভোকেট মোঃ জাফর ইমাম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব অনুযায়ী সুপারিশসহ একটি ফাইল এটর্নি জেনারেলের নিকট দিয়েছি। তিনি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেবেন।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.