29th Jul 2008
তারেককে রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে বাধ্য করতে পারবেন না: সরকারকে চারদলীয় জোট নেতৃবৃন্দ
গুরুতর অসুস্থ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে সরকার গোপনে কি দরকষাকষি করতে চায় অবিলম্বে তা ‘তথ্য বিবরণীর’ মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন চারদলীয় জোটের নেতারা। একই সঙ্গে তারা বলেন, তারেক রহমানকে আটকে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে বাধ্য করতে পারবেন না। আগে তারেককে বিদেশে পাঠান। তারপর বেগম জিয়ার সঙ্গে গোপনে কি কথা বলতে চান বলবেন। কিন্তু অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলে কোন শর্ত তিনি মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ১২টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে অবিলম্বে সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন জোটের নেতারা।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে সোমবার বিকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে চারদল আয়োজিত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম খান, বিজেপি’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও মহাসচিব শামীম আল মামুন, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ।
বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মেডিকেল বোর্ডের বারবার সুপারিশের পরও সরকার মৃত্যুপথযাত্রী তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসায় কেন বিদেশে পাঠাচ্ছে নাÑ তা নিয়ে দেশ-বিদেশের মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কেন, কি উদ্দেশ্যে তারেককে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে না, আপনারা কি দরকষাকষি করতে চান এবং কি পেতে চান তা তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করুন। অবিলম্বে তিনি তারেককে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে বলেন, চিকিৎসার অভাবে যদি তারেক পঙ্গু বা মৃত্যুবরণ করে তার জন্য সরকারই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ কোন নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আÍসম্মানবোধ থাকলে আপনারা নিজেরাই সরে দাঁড়ান। অবশ্য আপনাদের পেছনে থেকে কোন বিশেষ মহল পদত্যাগ করতে নাও দিতে পারে। এ কমিশনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নষ্ট করে একটি তাঁবেদারি রাষ্ট্র বানানোর প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু আপনারা যদি বিদায় না নেন, দেশের মানুষ অন্ধ নয়, কিভাবে বিদায় নেবেনÑ তা বলার অবকাশ নেই। কমিশনের পেছনে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী বড় শক্তি রয়েছে অভিযোগ করে খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, কিন্তু ১৫ কোটি মানুষ কোন ‘আন্ডার ওয়ে ড্রিলিংয়ের’ মাধ্যমে প্রহসনের নির্বাচনের রায় মেনে নেবে না। যেভাবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সেভাবেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে দেশবাসী।
বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে খোন্দকার দেলোয়ার বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ সংশোধনের চেষ্টা বাদ দিন। নতুন মদ পুরনো বোতলে না দিয়ে আগের আইনেই নির্বাচন করুন। কারণ সংসদ ছাড়া অধ্যাদেশ পাস করার অধিকার কারও নেই। আমলা হয়ে ক্ষমতাবহির্ভূত চর্চা করবেন না। দলের সংস্কারপন্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফ্যাক্টরিতে কলাগাছ বানানোর চেষ্টা করে সফল হয়নি। সব ভণ্ডুল হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এ সরকার পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। তারা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করছে না। কিছু দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে ১১ জানুয়ারি সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। এতে দেশীয় দালালরা লাভবান হতে পারে। আর বাইরের ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশে তাঁবেদার সরকার বসিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করে অর্থনীতিকে কব্জা করার মতলব করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, শিগগির চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসে সর্বশেষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
সমাবেশে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ১২ দফা অভিযোগ উত্থাপন করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করা, সরাসরি বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, বিএনপিকে বিভক্ত করতে উস্কানি দিয়ে সহায়তা করা, সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেয়া, সংবিধান লংঘন, ভোটার তালিকা তৈরিতে বিধি লংঘন, ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন না করে অবৈধভাবে স্থানীয় নির্বাচন করা, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাস ও ‘না’ ভোটের বিধান রাখা, ইসলামী দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, পাতানোর নির্বাচনের আয়োজন করা এবং সব ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী মনোভাব পোষণ করা। জামায়াতের সেক্রেটারি অবিলম্বে এ অভিযোগগুলো সম্পর্কে কমিশনের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেছেন।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.