30th Jul 2008
দশ বিচারপতি নিয়োগে হাইকোর্টের রায় সুপ্রিমকোর্টে স্থগিত : নিয়মিত আপিল দায়েরের নির্দেশ
বাদপড়া অস্থায়ী দশ বিচারপতিকে স্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ দেয়ার হাইকোর্টের রায় তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত ঐ সময়ের মধ্যে সরকার ও হাইকোর্টের ১৯ বিচারপতিকে নিয়মিত আপিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। এছাড়া আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোঃ আশরাফুজ্জামানের দায়ের করা আপিল গ্রহণ করেছে। প্রসঙ্গত, হাইকোর্ট গত ১৭ জুলাই জোট সরকারের আমলে বাদপড়া অস্থায়ী দশ বিচারপতিকে আগামী এক মাসের মধ্যে স্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ প্রদান করে। একইসঙ্গে হাইকোর্ট ঐ বিচারপতিদের জ্যেষ্ঠতা প্রদানের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের দেয়া এই রায় স্থগিতের জন্য সরকার, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত ১৯ বিচারপতি আপিল দায়ের করেন। পাশাপাশি এডভোকেট মোঃ আশরাফুজ্জামান আপিলে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন জানান।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরকার ও ১৯ বিচারপতির পক্ষে দায়ের করা আবেদনের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে সরকার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ১৯ বিচারপতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট টিএইচ খান অংশ নেন। অপরদিকে বাদপড়া অস্থায়ী ১০ বিচারপতির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম ও ব্যরিস্টার আজমালুল হোসেন কিউ সি।
শুনানিতে অংশ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট সালাহউদ্দিন আহমেদ হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন জানিয়ে বলেন, এক মাসের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে যদি সরকার অস্থায়ী বিচারপতিদের নিয়োগ প্রদান করে তাহলে বর্তমান কর্মরত বিচারপতিদের জ্যেষ্ঠতা লংঘিত হবে। এছাড়া পরবর্তীকালে আপিল বিভাগ যদি মনে করে হাইকোর্টের দেয়া রায় ভুল ছিল, সেক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন কিভাবে সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রধান বিচারপতির সুপারিশ মানা রাষ্ট্রপতির জন্য বাধ্যতামূলক কি-না এবং বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এ ধরনের নির্দেশনা দেয়ার এখতিয়ার আছে কি-না তিনি জানতে চান। তিনি আদালতকে আরো বলেন, রায়ের সঙ্গে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয়টি জড়িত রয়েছে। এক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।
এডভোকেট টিএইচ খান বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ গ্রহণ ৭২’র সংবিধানে উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা নেই। তিনি রায় স্থগিতের আবেদন জানান।
অপরদিকে ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম আদালতকে বলেন, হাইকোর্টে রিট মামলার নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। এর ফলে এই দশ বিচারপতির প্রতি এক ধরনের অবিচার করা হয়েছে। এখন আবার সরকার পক্ষ হাইকোর্টের রায় স্থগিতের জন্য এসেছেন বিষয়টিকে আরো বিলম্বিত করার জন্য। তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টের ১৯ বিচারপতি রায় স্থগিতের আবেদন করেছেন। এই ধরনের কোন আবেদন করা যায় কি-না, যাতে উচ্চ আদালতের সংহতি ক্ষুণœ হয়? এছাড়া এর সঙ্গে শৃঙ্খলা ও আচরণের বিষয়টি জড়িত।
ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকার আপিল করেছে। এক্ষেত্রে হাইকোর্টের বিচারপতিদের আপিল করার দরকার ছিল না। তিনি বলেন, হাইকোর্টের এতজন বিচারপতি একসঙ্গে বিচারপ্রার্থী হয়েছে তা আগে দেখিনি। এই আপিলের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে আপনাদের সমতা রক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউ সি বলেন, রায় স্থগিত করা উচিত হবে না। আবেদনগুলো স্ট্যান্ডওভার রাখেন।
উভয়পক্ষের কৌঁসুলিদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে দুপুর পৌনে ১২ টায় আদেশ প্রদান করে আপিল বিভাগ। আদেশে ৩ সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের রায় স্থগিত এবং নিয়মিত আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অস্থায়ী বিচারপতিদের নিয়োগ দেয়া হলে ভবিষ্যতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ আপিল বিভাগ যদি মনে করে হাইকোর্টের রায় ভুল ছিল তখন জটিলতা দেখা দিবে।
এডভোকেট টিএইচ খান বলেন, হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেলে আমরা নিয়মিত আপিল দায়ের করব।
ড. কামাল হোসেন বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সুপারিশ মানা উচিত। এটাকে হালকাভাবে নেয়া ঠিক নয়। কারণ এটি শত বছরের প্রথা। তিনি আরো বলেন, কোন বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেন বিরোধ সৃষ্টি না হয়, এজন্য ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.