31st Jul 2008

গঠিত হলো ট্রুথ কমিশন: চেয়ারম্যান বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান

বহুল আলোচিত ট্রুথ কমিশন অবশেষে বাস্তব রূপ লাভ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানকে চেয়ারম্যান করে গতকাল বুধবার গঠন করা হয়েছে ট্রুথ কমিশন হিসাবে পরিচিতি পাওয়া সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশন। সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সি এ্যান্ড এজি) আসিফ আলী এবং মেজর জেনারেল (অবঃ) মনজুর রশীদ খান পাঁচ মাস মেয়াদী এই কমিশনের সদস্য হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড: ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ গতকাল দুপুরে ট্রুথ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ অনুমোদন করেন।

 

দুর্নীতির বিষয়ে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে ট্রুথ কমিশন বা সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উপদেষ্টা পরিষদ গত ২৫ মে স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ অধ্যাদেশ ২০০৮ অনুমোদন করে। এরপর ৫ জুন রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। কিন্তু এক পর্যায়ে অধ্যাদেশটিতে বেশ কিছু মৌলিক ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ায় এটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ৬ জুলাই অধ্যাদেশটির কিছু সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। এরপর রাষ্ট্রপতি আবার সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেন।

সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান ইতিপূর্বে একাধিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রধান ছিলেন। গতকাল ট্রুথ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, দুর্নীতির দায় বা অভিযোগ থেকে রেহাই পাবার এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করবে না বলেই তিনি আশা করছেন।

স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ অধ্যাদেশ অনুযায়ী দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ-সম্পদ অর্জনকারী যে কোনো ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ট্রুথ কমিশনের কাছে নিজের দুর্নীতির তথ্য স্বীকার করে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়ে অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে যারা ইতিমধ্যেই দুর্নীতির মামলায় দুই বছর বা তারচে’ বেশি সময়ের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা ট্রুথ কমিশনের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া অস্ত্র ও মাদকের কারবার, নারী ও শিশু পাচার এবং ধর্ষণ মামলার আসামিরা কমিশনের অনুকম্পা লাভের অযোগ্য বিবেচিত হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে কমিশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবে।

রাজধানীর হেয়াররোডে মন্ত্রীপাড়া বলে খ্যাত এলাকায় তিনটি বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে ট্রুথ কমিশনের কার্যালয়। কমিশনের কাজে সাচিবিক ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানের জন্য ২৬ জন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রেষণে ট্রুথ কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

 

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.