31st Jul 2008
মুসলিম সংগঠনের নামে ই-মেইল করে কলকাতায় আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেফতার
ই-মেইল পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কলকাতায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য আজ ভোরে সল্টলেক অঞ্চলের এক যুবক ও তার সঙ্গিনীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
‘সিমি গোধরা’ সংগঠনের পক্ষ থেকে জনৈক খালিদ মুহাম্মদ একটি ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেয়, তারা কলকাতাকে ধ্বংস করে দেবে। ই-মেইলে বলা হয়, শহরের পার্ক স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস, নিউ অলিপুর, কলকাতা হাইকোর্ট, অ্যাপোলো হাসপাতাল, বিধানসভা ভবন, নিকো পার্ক, সিটি সেন্টার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় তারা মঙ্গলবার রাত ১০টার সময় বিস্ফোরণ ঘটাবে। গুজরাটে মুসলিমদের হত্যার বদলা নিতে কলকাতায় এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে বলে হুমকি দেয়ায়া হয়। এই হুমকির কথা লাগাতারভাবে কয়েকটি টিভি চ্যানেল প্রচার করায় জনমানসে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতংকের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও বোম্ব স্কোয়াড উল্লিখিত স্থানগুলোতে ব্যাপক তল্লাশী শুরু করে। রাত ১০টার আগেই পথঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। উল্লেখিত এলাকার হোটেল ও শপিংমলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে অবশ্য পুলিশ কম্পিউটার ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য দিয়ে জানতে পারে এই ই-মেইলটি এসেছে সল্টলেকের জনৈক অসীম বসুর বাড়ি থেকে। অসীম বসুর ছেলে কৌশিক বসু একটি বে-আইনী সাইবার ক্যাফ তার বাড়ী থেকে চালাতো। পুলিশ ও গোয়েন্দারা রাত ১০টা নাগাদ কৌশিক বসুর বাড়িতে হানা দেয়। কয়েক ঘন্টা ধরে তল্লাসী ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে তার সাইবার ক্যাফের ম্যানেজার সাবিত্রী দন্ডবাতে বলে এক মহিলাকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কৌশিক বসুর পাঠানো ই-মেইলে বেশ কিছু ইসলামী শ্লোগান ও বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য ছিল। ওই ই-মেইলে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ীর নাম্বারও দেয়া ছিল। পরে জানা যায়, গাড়িটি হচ্ছে রাজ্যের একজন মুসলিম মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লার।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিদ্বিষ্ট ও সন্দেহ প্রবণ করে তোলার লক্ষ্যেই এই ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল। আজ দুপুরে কৌশিক বসুকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হলে আদালত তাকে ১৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে প্রেরণ করেছে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.