31st Jul 2008
মান্নান ভূঁইয়া মুক্ত, খালেদার মুক্তি দাবি
বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া গতকাল কারাগার থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেছেন, বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে বিএনপির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
প্রায় আড়াই মাস কারাভোগের পর আবদুল মান্নান ভূঁইয়া গতকাল বিকালে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার আসামি মান্নান ভূঁইয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম এবং প্রয়াত নেতা আকবর হোসেনের ছেলে সায়মনকে সোমবার হাইকোর্ট জামিন দেন। মান্নান ভূঁইয়ার জামিনের কাগজপত্র গতকাল কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৬টায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু অন্য আসামি এম শামসুল ইসলামের নামে দুদকের আরো দুটি মামলা থাকায় তিনি মুক্তি পাননি।
গুলশানের বাসায় ফেরার পর মান্নান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অসুস্থ তারেক রহমানের দ্রুত সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও মোহাম্মদ নাসিমসহ কারাবন্দি অসুস্থ নেতাদের মুক্তি এবং সুচিকিৎসার দাবি জানান। সেই সঙ্গে কারাগার সংস্কারেরও দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কারাগারে জনবল বৃদ্ধি ও পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার এবং কারা কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা উচিত। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে কারা সংস্কারের যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল তার দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মান্নান ভূঁইয়ার মতে, বর্তমানে কারাগারে কয়েদির সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। তাই ছোটখাট মামলায় অভিযুক্তদের এবং জামিন পাওয়ার যোগ্য আসামিদের জামিনের ব্যবস্থা করা উচিত।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান ও বিএনপি নেতা ফিরোজ খানসহ কয়েকশ নেতাকর্মী কারাগারের বাইরে ফুলের তোড়া দিয়ে মান্নান ভূঁইয়াকে শুভেচ্ছা জানান। কারাগার থেকে মান্নান ভূঁইয়া একটি পাজেরো গাড়িতে তার গুলশানের বাসায় আসেন। এ সময় তার গাড়ির সামনে-পেছনে ছিল সমর্থক ও নেতাকর্মীদের গাড়িবহর। গুলশানের বাসায়ও সমর্থক নেতাকর্মীরা মান্নান ভূঁইয়াকে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন।
বাসায় ঢোকার পর মান্নান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের কাছে গ্যাটকো মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মামলাটি বিচারাধীন।
মান্নান ভূঁইয়া ১৮ মে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোমবার বিচারপতি শরীফউদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ মান্নান ভূঁইয়াসহ অন্য তিন আসামিকে দুই মাসের জামিন দেন। আদালত একই সঙ্গে মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করেন। এর আগে একই মামলার আসামি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম কে আনোয়ারও হাইকোর্টের জামিনে মুক্তি পান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ও তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো মামলাটি করেন। অবশ্য চার্জশিটে এ মামলায় আসামি করা হয় ২৪ জনকে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.