01st Aug 2008

কুয়েতে বাংলাদেশী শ্রমিকরা গ্রেফতার আতঙ্কে প্রতি ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

এক সপ্তাহ আন্দোলনের পর অবশেষে কুয়েত সরকার বাংলাদেশী শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সব কোম্পানি মালিককে নির্দেশ দিয়েছে। শ্রমিকদের ৫০ দিনার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে তারা ৪০ দিনার বেতন পাবেন। ইন্সুরেন্স, মেডিক্যাল ও রেসিডেন্স ফি কোম্পানিকে বহন করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে এ তথ্য জানান। তবে গতকাল সìধ্যা পর্যন্ত ক’জন শ্রমিককে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে হিসাব তিনি জানাতে পারেননি।

 


কুয়েত থেকে নির্যাতিত একাধিক শ্রমিক গত রাতে টেলিফোনে নয়া দিগন্তকে জানান, তারা এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আন্দোলনের জের ধরে এখনো পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় বাংলাদেশী শ্রমিক দেখলেই আটক করে নিয়ে প্রথমে নির্যাতন ও পরে বিমানে তুলে দিচ্ছে। তাই তাদের মধ্যে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য, কুয়েত থেকে ছেড়ে আসা প্রতি ফ্লাইটেই বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিমানে তুলে দেয়া হচ্ছে। এ দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্খান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মতিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটের সময় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হওয়া শ্রমিকদের মধ্য থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২০১ জনকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কুয়েত সরকার। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর শাহরিয়ার কাদের আরো বলেন, কুয়েত সরকার সব কোম্পানির সাথেই কথা বলেছে। তবে দু’টি কোম্পানির মালিকের কথা বলতে পারেনি। কারণ তারা দেশে নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কুয়েত সরকার কোম্পানি মালিকদের জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে শ্রমিকদের ৪০ দিনার করে বেতন দিতে হবে। এ ছাড়া মেডিক্যাল, ইন্সুরেন্স ও রেসিডেন্স ফি দিতে হবে। কোম্পানির মালিকরাও এই নির্দেশ মেনে নিয়েছেন। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শ্রমিকরা যার যার কাজে ফিরে গেছেন। তবে দু’টি কোম্পানির এখনো সমস্যা রয়ে গেছে। আশা করছি, এটিও শেষ হয়ে যাবে। এ পর্যন্ত কত শ্রমিককে কুয়েত সরকার দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সেই হিসাব তিনি জানেন না জানিয়ে বলেন, বুধবার কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে। এরপরই সরকার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা না হয়। তবে তিনি বলেন, কুয়েতের আইন ভঙ্গ করে যেসব শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরকে গ্রেফতার করবে। তবে অপরাধ করেনি এমন কেউ যদি ধরা পড়ে থাকে তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, কুয়েত সরকার বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় অংশ নিলেও তারা মূলত এখন কঠোর অবস্খানে রয়েছে। তাদের এখন টার্গেট এই সুযোগে তারা প্রতিদিনই বাংলাদেশী শ্রমিক আটক করে বিমানে তুলে দেবে। প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, কুয়েতের অবস্খা এখন কোন দিকে গড়ায় তা বোঝা যাচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার থেকে কুয়েতে অবস্খানরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা তাদের বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের জের ধরে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে বাংলাদেশী শ্রমিক, সেই দেশের পুলিশ ছাড়াও ভিন্ন দেশের নাগরিকরা আহত হয়। এর জের ধরে কুয়েতের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিককে গ্রেফতার করে মারধর ও নির্যাতন করে। এরপরই তারা প্রতিটি ফ্লাইটে শ্রমিকদের দেশে পাঠানো শুরু করে।
 

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.