03rd Aug 2008

তারেক রহমানের দৈহিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে

পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের স্বাস্থের কোনো উন্নতি হয়নি। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তাররা বলছেন এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানো দরকার। সরকারকে বারবার এ বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেয়ায় তারেক রহমানের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের চিকিৎসায় নিয়োজিত একাধিক ডাক্তার গতকাল শনিবার দিনকালকে এ কথা বলেন। ডা. কাজী মাজহারুল ইসলাম দোলন বলেন, সমস্ত শরীরে ব্যথা বেড়েছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ এবং তার দুই হাঁটু ফুলে গেছে ।

 

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের শারীরিক সকল সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে মূলত মেরুদে র হাড় ভাঙা থাকার কারণে। তার মেরুদে র ৬ ও ৭ নম্বর হাড় ভাঙা থাকায় সমস্ত শরীরে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত কমে যাচ্ছে দু পায়ের মাংসপেশী। তিনি বলেন, তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন পিঠের ব্যথায়। মেরুদে র হাড় দুটি যেখানে ভাঙা সেখানে তিনি বেশি ব্যথা অনুভব করেন। এ কারণে তারেক রহমান বেশিক্ষণ শুয়ে থাকতে পারেন না। তাছাড়া তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসেও থাকতে পারেন না। এক কথায় বন্দী তারেক রহমান দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ডা. মাজহারুল ইসলাম আরো বলেন, তারেক রহমানের ওজন দ্রুত কমে যাচ্ছে । গত ৩১ জানুয়ারি যখন তাকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন তার ওজন ছিল ৬৫ কেজি। কিন্তু বর্তমানে তারেক রহমানের ওজন দাঁড়িয়েছে ৫৩ কেজি । ওজন কেন কমে যাচ্ছে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মাজহারুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমান হাসপাতালের দেয়া খাবার মোটেই খেতে পারেন না। আর তিন বেলা ঠিকমতো খাবার না খাওয়ায় তার ওজন দ্রুত কমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মাঝে মাঝে বাসা থেকে খাবার দিয়ে যায়। সেগুলো তিনি ভাল মতো খেতে পারেন। তারেক রহমানের চিকিৎসায় নিয়োজিত ওই ডাক্তার আরো বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ সত্ত্বেও তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠানোয় তার অবস্থা ক্রমশই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তারক রহমানের যে সমস্যা তার সুচিকিৎসা এখানে সম্ভব না। এখানে আমরা তাকে ওই সমস্যার কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি। তারেক রহমানকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো না হলে তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে । ডাক্তাররা আরো বলেন, একজন ডাক্তার হিসাবে রোগীকে সুস্থ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে । যেহেতু তারেক রহমানের চিকিৎসা এ দেশে সম্ভব না সে কারণে আমরা অনেকবার সুপারিশ করেছি তাকে বিদেশে পাঠাতে। কিন্তু সে ব্যাপারে সরকার এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়ন্ ি। তারা আরো বলেন, রোগীর ভালোর জন্যই আমরা বিদেশ পাঠানোর কথা বলছি। উল্লেখ্য, ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে মইনুল রোডের বাসা থেকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে তিনি পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.