05th Aug 2008

পুরনো ঢাকার অপহরণকারীরা শিশুদের রক্ত বিক্রি করে নেশার টাকার জন্য

<<<স্কুলছাত্র সিয়ামের লোমহর্ষক তথ্য

অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা স্কুল ছাত্র সিয়াম পাঁচ দিন পর গতকাল সোমবার মুখ খুলেছে। অপহরণকারীদের হেফাজতে সাতদিন থাকাকালে তার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে বিক্রি করাসহ নানা তথ্য সে জানায়। গতকাল বিকালে সিয়ামদের পুরানো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড ৪০/ক, আলী নকী লেনের বাসায় গিয়ে বাবা-মা ও সিয়ামের সঙ্গে আলাপে তারা অপহরণ থেকে শুরু করে তাকে ফিরে পাওয়া পর্যন্ত সব তথ্য জানায়। সিয়াম (১২) আলী নকী লেনে ঢাকা প্রি-ক্যাডেট চাইল্ড কেয়ার স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। সে খুবই সহজ সরল। এলাকাবাসীর নিকট সিয়াম ভাল ছেলে হিসাবে পরিচিত। কেউ ধমক দিলেও সিয়াম ভয় পায়। ২৩ জুলাই সিয়াম রাত ৮টা পর্যন্ত বাসায় শিড়্গকের নিকট পড়াশোনা করে। রাত ৯টায় সে বাসা থেকে বের হয়। রাত ১১টা পর্যন্ত সিয়াম বাসায় ফিরে না আসায় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেন।

দুর্বৃত্তরা সিয়ামকে কায়েৎটুলির একটি বাসায় নিয়ে আটক রাখে। বড়িরমত কিছু খেতে দেয়। বড়ি খাওয়ার পর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরে দেখে তার দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহ করেছে। বিছানার পাশে এক ব্যাগ রক্তও দেখতে পায়। ঐ বাসায় তার বয়সের আরও ৭ থেকে ৮ জন ছেলেকে দেখতে পেয়েছে। এই বাসায় তাকে ৫ দিন আটক রাখে। এরপর আবার একটা কিছু খাওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ২৮ এপ্রিল সকালে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে দেখে সে লঞ্চে। ঐ সময় কয়েক ব্যক্তি তাকে সঙ্গে নিয়ে লঞ্চ থেকে নেমে পড়ে। সিয়ামকে তারা বলেঃ তুই এখন হেঁটে চলে যা, খাবারের প্রয়োজন হলে কাজ করে খাবি। তখন প্রচণ্ড ড়্গুধা সিয়ামের। এক ঠেলাগাড়ি চালক তাকে ১২ টাকা দেয়। এই টাকা দিয়ে বিস্কুট কিনে খায় সিয়াম। ইত্তেফাক থেকে তার পিতামাতাকে চাঁদপুর শহরের সাজ্জাদ নামে এক ব্যক্তির টেলিফোন নম্বর দেয়া হলে তারা গত বুধবার সকালে চাঁদপুর শহরে যান। নানীপুর এলাকায় হৃদয়বান তরুণদের হেফাজতে সিয়ামকে পান।

কায়েৎটুলির যে বাসায় তাকে আটক রেখেছিল। ঐ বাসায় লম্বা চুলওয়ালা কয়েকজনকে সিয়াম দেখেছে চিকিৎসক তার দেহে ইনজেকশন ব্যবহার করার আলামত পেয়েছেন। কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়েছে।    -।। আবুল খায়ের ।।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.