06th Aug 2008

হিরণ কামরান খালেক ও লিটন মেয়র নির্বাচিত

দেশের চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বেসরকারি ফল গতকাল ভোরে প্রকাশিত হয়। এতে বরিশালে শওকত হোসেন হিরণ, সিলেটে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক এবং রাজশাহীতে খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। স্খানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিভিন্ন পরিষদের ব্যানারে প্রার্থী হলেও নির্বাচিত চার মেয়রই আওয়ামী লীগের নেতা এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত। এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন বরিশালের সরফুদ্দিন আহমদ সান্টু। কোনো বড় দলের সমর্থন ছাড়াই তিনি জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পিডিপি নামের একটি অপরিচিত দলের এই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে না পারলেও তিনি হেরেছেন মাত্র ৫৮৮ ভোটে। ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাপ্ত ভোটে কখনো সান্টু কখনো হিরণ এগিয়ে থাকায় টান টান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা এবার অন্য কোনো সিটি নির্বাচনে দেখা যায়নি। এবার নির্বাচিত চার মেয়রের আরেকজন­ সিলেটের বদর উদ্দিন কামরান নির্বাচিত হয়েছেন কারাগার থেকে। বেশ ক’টি দুর্নীতি মামলায় তিনি বর্তমানে জেলে আছেন।

 


বরিশাল ব্যুরো থেকে কামাল মাছুদুর রহমান জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ দল সমর্থিত আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরষ ৫৮৮ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সম্মিলিত নাগরিক কমিটির ব্যানারে টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৪৬ হাজার ৭৯৬। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিডিপি সমর্থিত সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২০৮ ভোট। হিরণ মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগের দখলে চলে গেল।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তৎকালীন বরিশাল পৌরসভায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এর পর জাতীয় পার্টি ও বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও কখনো আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারেনি।
২০০৩ সালের ২০ মার্চ প্রথমবারের মতো বিসিসি নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী বিএনপি জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ১০ হাজার ৩৪ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৪২ হাজার ৬৮৯। তখন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১৪ দল সমর্থিত নাগরিক পরিষদের অ্যাডভোকেট এনায়েত পীর খান। (৩২ হাজার প্রাপ্ত ভোট)।
বরিশাল উপনির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে গতকাল ভার সাড়ে ৫টায় বেসরকারিভাবে ৯১টি কেন্দ্রের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলে তৃতীয় অবস্খানে রয়েছেন বিএনপি বহিষ্কৃত সাবেক মহানগর সভাপতি আহসান হাবিব কামাল। তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪১৬ ভোট, চতুর্থ হয়েছেন বিএনপির জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবায়েদুল হক চান। তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬২৬ ভোট। এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬ জন ভোটার ভোট দিলেও বিভিন্ন কারণে ৩ হাজার ১১৩টি ভোট বাতিল হয়ে যায়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবার বরিশালে নির্বাচনে ৮২.০৩ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। প্রদত্ত ভোটের শতকরা ২৬ ভাগ ভোট পেয়েছেন হিরণ।
অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন হিরণ মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া জানান। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার কর্মীদের কাছে তিনি জানান, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বরিশাল নগরীকে একটি উন্নত নগরীতে পরিণত করবেন। কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য নবনির্বাচিত মেয়র সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সিলেট
সিলেট ব্যুরো থেকে এনামুল হক জুবের ও মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জানান, গতকাল ভোরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দী বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানই সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ ফ ম কামাল পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯৭ ভোট এবং জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম এ হক পেয়েছেন ২৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ২০০৭ সালের ২৯ মে সিলেটে গ্রেফতার হন। ওই বছরের ৩১ মে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো জরুরি বিধিমালা, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং দুর্নীতি দমন আইনে দায়ের করা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলররা হচ্ছেন­ ১ নম্বর ওয়ার্ডে আজিজুল হক মানিক, ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাজিক মিয়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল খালিক, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েস লোদী, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেজওয়ান আহমদ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহিউদ্দিন আহমদ লোকমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জগদীশ দাস, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মখলিছুর রহমান কামরান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে সালেহ আহমদ, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রকিব বাবলু, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে সিকান্দর আলী, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সান্তনু দত্ত সন্তু, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রহমান জিহাদ, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মুজিবুর রহমান শওকত, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জামাল আহমদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফয়জুল আনোয়ার, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে দিনার খান হাসু, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আজাদুর রহমান আজাদ, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে সাজ্জাদুর রহমান সুজ্জাদ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সালেহ আহমদ সেলিম, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী ফারুক আহমদ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শাহজাহান, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে আশিক আহমদ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম আহমদ রনি ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল জলিল নজরুল।
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে বিজয়ী ৯ কাউন্সিলর
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন পুরনো কমিশনার তিনজন, বাকি ছয়জন নতুন মুখ। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলরা হলেন­ ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা; ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আকতারুন্নেছা বেবী; ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জেবুন্নাহার শিরীন; ১০, ১১, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে রুহেনা খানম মুক্তা; ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে শাহানা বেগম শানু; ১৬, ১৭, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাহানারা বেগম; ১৯, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে নাজনীন আক্তার কনা; ২২, ২৩, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে সালেহা কবীর সেফী এবং ২৫, ২৬, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আসমা বেগম বিজয়ী হয়েছেন।
সিলেটবাসীর প্রতি কামরানের কৃতজ্ঞতা
কুমিল্লা থেকে সহিদ উল্লাহ মিয়াজী জানান, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তার বিজয়ের খবর প্রথম পান টেলিভিশনের মাধ্যমে। গতকাল সকালে তাকে দেয়া বিভিন্ন পত্রিকায় তিনি তার বিজয়ের খবর দেখেন। বিজয়ের খবর দেখে তিনি আল্লাহর দরবারে বিশেষ মুনাজাত করেন। আদায় করেন শুকরিয়া। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারগার সূত্র জানায়, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিভিশন ওয়ার্ডে মেয়র কামরানকে মঙ্গলবার সকালে পত্রিকা এবং নাশতা দিতে গেলে তাদের কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিপুল ভোটের ব্যবধান দেখে তিনি সিলেটবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর দোয়া চান।
খুলনা ব্যুরো জানায়, মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিকে পরাজিত করে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮১২ ভোট। মনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৭৬। অপর চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে সিপিবি’র ফিরোজ ১৪ হাজার ২২৩, অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী ৩ হাজার ৭৭, এস এম মোসলেম উদ্দিন ১ হাজার ২৭ এবং শেখ তৈয়েবুর রহমান ৫৯৮ ভোট পেয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৭২০ জন। ভোট পড়েছে ৭৭.৮০ ভাগ। বাতিল ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৩৮টি এবং বৈধ ভোট সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৭০৪টি।
নির্দলীয় নির্বাচনের কথা বলা হলেও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলরের মধ্যে ১৩ জন বিএনপি, ৯ জন আওয়ামী লীগ, ২ জন জামায়াত ও বাকি ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন ১৫ জন। কারাগারে আটক অবস্খায় ২ জন ও পলাতক থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১ জন প্রার্থী।
নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন­ ১ নম্বর ওয়ার্ডে মনিরুজ্জামান খান খোকন (আ’লীগ), ২ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ ইউনুস আলী (আ’লীগ), ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো: মাকসুদ হাসান পিকু (আ’লীগ), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন (জামায়াত), ৫ নম্বরে শেখ কামরুজ্জামান (বিএনপি), ৬ নম্বরে শেখ শওকত আলী (বিএনপি), ৭ নম্বরে শেখ শহিদুল ইসলাম (বিএনপি), ৮ নম্বরে মো: শাহ আলম (বিএনপি), ৯ নম্বরে কাজী সরোয়ারুল আজম মানু (স্বতন্ত্র), ১০ নম্বরে শেখ খায়রুজ্জামান খোকা (বিএনপি), ১১ নম্বরে মো: আবুল কাশেম (আ’লীগ), ১২ নম্বরে মো: মনিরুজ্জামান মনির (স্বতন্ত্র), ১৩ নম্বরে মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল (বিএনপি), ১৪ নম্বরে শেখ মফিজুর রহমান পলাশ (স্বতন্ত্র), ১৫ নম্বরে মো: আমিনুল ইসলাম (আ’লীগ), ১৬ নম্বরে মো: আনিসুর রহমান বিশ্বাস (বিএনপি), ১৭ নম্বরে শেখ হাফিজুর রহমান (বিএনপি এবং কারাগারে আটক), ১৮ নম্বরে খান মুনসুর আলী (জামায়াত), ১৯ নম্বরে আশফাকুর রহমান কাকন (বিএনপি), ২০ নম্বরে শেখ মো: গাউসুল আজম (বিএনপি), ২১ নম্বরে মো: শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন (স্বতন্ত্র), ২২ নম্বরে মো: মাহবুব কায়সার (বিএনপি), ২৩ নম্বরে ইমাম হাসান চৌধুরী ময়না (স্বতন্ত্র), ২৪ নম্বরে শহীদ ইকবাল বিথার (আ’লীগ), ২৫ নম্বরে মো: আলী আকবর টিপু (আ’লীগ), ২৬ নম্বরে মো: গোলাম মাওলা শানু (স্বতন্ত্র এবং কারাগারে আটক), ২৭ নম্বরে জেড এ মাহমুদ ডন (আ’লীগ), ২৮ নম্বরে আজমল আহমেদ তপন (আ’লীগ), ২৯ নম্বরে মো: গিয়াস উদ্দিন বনি (বিএনপি), ৩০ নম্বরে মো: আমানুল্লাহ আমান (বিএনপি) এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মো: হোসেন মুক্তা (স্বতন্ত্র এবং পলাতক)।
এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত মহিলা কাউন্সিলররা হচ্ছেন­ মনিরা আখতার, সাহিদা বেগম, ফিরোজা খানম, আফরোজা জামান, মেমোরী সুফিয়া রহমান শুনু, আমেনা হালিম বেবী, এ মাহমুদা বেগম, হালিমা ইসলাম, রুমা খাতুন ও রোকেয়া ফারুক।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য লড়েছেন ছয়জন প্রার্থী। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১টি ওয়ার্ডে ২০৭ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ দল ও স্খানীয় নাগরিক কমিটির মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ৯৮ হাজার ৩৬০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যুবদল নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৫৫০ ভোট। এই দু’জন ছাড়া অন্য ১৩ প্রতিদ্বন্দ্বীর কেউই নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন আবদুল খালেক। তিনি পেয়েছেন ২৯৯ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজাউন নবী দুদু ১২ হাজার ৭২১ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্খানে রয়েছেন। সিদ্দিকুর রহমান ৯ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্খানে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদুল হক ডুলু ৫ হাজার ৪০৪, দুরুল হুদা ১ হাজার ৭৮৯, পিডিপি’র রায়হানুর রহমান রায়হান ১ হাজার ৪৫৭, আবদুল মতিন খান ১ হাজার ১৬১, নাসির আহম্মেদ বিদ্যুৎ ১ হাজার ৮, আখতারুজ্জামান বাবলু ৮৮৩, অ্যাডভোকেট এনামুল হক ৮৪১, রুহুল কুদ্দুস টুনু ৪০৪, আবুল কালাম আজাদ বাবু ৩৭৬, ফরমান আলী ৩৫১ এবং আবদুল খালেক ২৯৯ ভোট পেয়েছেন।
সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ভোটারসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৯। এর মধ্যে ২ লাখ ১১ হাজার ২৩১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ২ হাজার ২২১টি ভোট বাতিল হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মেয়র পদে, ৩০টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২০৩ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশ নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে যারা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন­ এক নম্বর ওয়ার্ডে মনসুর রহমান, দুই নম্বর ওয়ার্ডে নোমানুল ইসলাম, তিন নম্বর ওয়ার্ডে মেরাজ উদ্দিন, চার নম্বর ওয়ার্ডে সাজ্জাদ হোসেন, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান কামরু, সাত নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল জাব্বার, আট নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল হামিদ, নয় নম্বর ওয়ার্ডে মনিরুজ্জামান বাবলু, দশ নম্বর ওয়ার্ডে সিরাজ উদ্দিন মানিক, এগারো নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল ইসলাম তজু, বারো নম্বর ওয়ার্ডে শরিফুল ইসলাম বাবু, তেরো নম্বর ওয়ার্ডে রবিউল আলম মিলু, চৌদ্দ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ টুটুল, পনেরো নম্বর ওয়ার্ডে আবদুস সোবহান লিটন, ষোল নম্বর ওয়ার্ডে বেলাল হোসেন, সতেরো নম্বর ওয়ার্ডে শাহাদত আলী শাহু, আঠারো নম্বর ওয়ার্ডে শহিদুল ইসলাম পচা, উনিশ নম্বর ওয়ার্ডে নুরুজ্জামান টিটো, বিশ নম্বর ওয়ার্ডে মুস্তাক আহমেদ রতন, একুশ নম্বর ওয়ার্ডে নিজামুল আযীম নিযাম, বাইশ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল হামিদ সরকার টেকন, তেইশ নম্বর ওয়ার্ডে বজলুল হক মন্টু, চব্বিশ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর আলম, পঁচিশ নম্বর ওয়ার্ডে আকবর আলী, ছাব্বিশ নম্বর ওয়ার্ডে মখলেসুর রহমান খলিল, সাতাশ নম্বর ওয়ার্ডে আনওয়ারুল ইসলাম, আঠাশ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি’র আনসার উদ্দিন, ঊনত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডে জাহের হোসেন সুজা ও ত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলাম পিন্টু।
এ ছাড়া সংরক্ষিত এক নম্বর ওয়ার্ডে রাজিয়া সলতানা (স্বতন্ত্র), ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি’র ফারজানা হক, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তসলিমা বেগম বেলী (স্বতন্ত্র), ৪ নম্বর বিএনপি’র বিলকিস বানু, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফিরোজা খাতুন (স্বতন্ত্র), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সুফিয়া ইসলাম, ৭ নম্বর বিএনপি’র কহিনুর চৌধুরী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ারা বেগম (স্বতন্ত্র) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নুরুন্নাহার, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদা মল্লিকা (স্বতন্ত্র) নির্বাচিত হয়েছেন।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.